৫টি সহজ ধাপে ই-পাসপোর্ট করুন

গত ২২শে জানুয়ারি ২০২০ থেকে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর থেকে এখনো অনেকে ক্লিয়ার না কিভাবে ই-পাসপোর্ট এর জন্য এপ্লাই করতে হবে? কিভাবে ই-পাসপোর্ট হাতে পাবে? অথবা ই-পাসপোর্ট এর মেয়াদ এবং ফি সম্পর্কে। এই আর্টিকেলে আমি ৫ ধাপে ই-পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া তুলে ধরবো।

ধাপ ১ – চেক করুন আপনার এলাকায় ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু আছে কিনা

ই-পাসপোর্ট এর কাজ শুরু হয়েছে বলেই এখুনি খুশি হয়ে যাবার কারণ নেই। শুধুমাত্র ঢাকা সিটি বাদে (এই আর্টিকেল লিখার সময়) অন্য কোথাও এখনো ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হয়নি। আস্তে আস্তে সকল বিভাগীয় শহরের পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু করা হবে। ঢাকা বাদে অন্য শহরে আগের মত করে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের জন্য এপ্লাই করতে পারবেন।

ই-পাসপোর্ট
আপনার জেলায় ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হয়েছে কিনা দেখে নিন

তবে আপনার জেলা এবং থানা সিলেক্ট করে আপনি নিজেই দেখে নিতে পারবেন আপনার এলাকায় ই-পাসপোর্ট এর কাজ চালু হয়েছে কিনা। সেইটা চেক করার জন্য এইখানে ক্লিক করুন। এবং উপরে দেখানো ছবির মত আপনার দেশ, জেলা এবং বর্তমান থানা সিলেক্ট করে দেখতে পারবেন আপনার এলাকায় কার্যক্রম চালু হয়েছে কিনা। না হলে উপরে দেখানো ছবির মত ”Attention” ওয়ার্নিং আসবে।

ধাপ ২ – অনলাইনে ই-পাসপোর্ট ফরম পূরণ করুন

পিডিএফ ইডিটরের মাধ্যমে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। ই-পাসপোর্ট এর আবেদন দুইভাবে করা যায়।

অনলাইনে আবেদনঃ এইখানে ক্লিক করে আপনি সহজেই ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইনেই আবেদন করতে পারবেন। অনালিনে আবেদনের সময় অনলাইনেই পেমেন্ট অপশন সিলেক্ট করে নিবেন। এতে আপনার সময় অনেক বাঁচবে। অনলাইনে বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড অথবা বিকাশ দিয়েও পেমেন্ট করতে পারবেন।

পিডিএফ আবেদনঃ অনলাইন থেকে আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করে কম্পিউটারে পিডিএফ এডিটরের মাধ্যমেও আপনি ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। এরপর প্রিন্ট করে যাবতীয় কাগজপত্র (যেমন – জাতীয় পরিচয়পত্র, বার্থ সার্টিফিকেট, অন্যান্য কাগজপত্র ইত্যাদি) সহ পাসপোর্ট অফিসে জমা দিবেন। মনে রাখবেন, কোন হাতে লেখা ফর্ম এলাউ করা হবেনা।

ধাপ ৩ – পাসপোর্ট ফি পরিশোধ

এ ফি পরিশোধ নিয়ে অলরেডি ২য় ধাপে বলা হয়েছে। পাসপোর্টের তালিকাভুক্তির জন্য আপনাকে ফি পরিশোধ করতে হবে। অনলাইনে ফর্ম পূরণ করার সময় আপনি ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নেক্সাস পের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন। নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকেও পেমেন্ট করতে পারবেন, তবে সাথে পাসপোর্টের জন্য পূরণ করা ফর্ম সাথে রাখতে হবে। ই-পাসপোর্ট ফি নিয়ে নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো –

ই-পাসপোর্ট ফি। সোর্স – https://epassport.gov.bd/

ধাপ ৪ – ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ছবির জন্য পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ

ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ছবির জন্য পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সাথে নিয়েছেন কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট করার জন্য যেসব ডকুমেন্ট লাগতো তার প্রায় সবই ই-পাসপোর্ট এর জন্যও লাগবে। কমপক্ষে জাতীয়তার সনদ/ জাতীয় পরিচয়পত্র, পুরানো পাসপোর্ট (যদি থাকে), পেমেন্ট স্লিপ, অন্যান্য কাগজপত্র সাথে রাখবেন। বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী আপনার বর্তমান ঠিকানার পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করবেন।

পাসপোর্ট অফিসে মূলত নিচের বিষয়গুলো যাচাই করা হবে –

  • কাগজপত্র বা ব্যাক্তিগত তথ্য যাচাই
  • আবেদনকারীর ছবি তোলা হবে
  • আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশের ছবি নেওয়া হবে
  • পাসপোর্ট ফর্ম যথাযথ ভাবে পূরণ করা হয়েছে নাকি চেক করা হবে।

সব কাজ শেষ করার পর পাসপোর্ট ফর্ম গ্রহণ করে আপনাকে ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হবে। ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করার সময় ডেলিভারি স্লিপ দেখাতে হবে।

ধাপ ৫ – পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট কালেক্ট করুন

আবেদনকারীকে পাসপোর্ট গ্রহণের সময় সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। তবে ১১ বছরের কম বয়সীদের জন্য বাবা-মা, অসুস্থ ব্যাক্তির ক্ষেত্রে পরিবারের কেউ প্রমাণ সাপেক্ষে ডেলিভারি স্লিপ দেখিয়ে ই-পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য পাসপোর্ট ফর্ম জমা দেওয়ার সময় যে ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হয়েছে সেটা আনতে হবে। পুরনো পাসপোর্ট থাকলে তাও আনতে হবে। পাসপোর্ট দেওয়ার সময় আবেদনকারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট আবারো মিলিয়ে ই-পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।

পাসপোর্টের আবেদনের পর স্ট্যাটাস চেক করতে এইখানে ক্লিক করুন

মোটামুটি এই হল ৫ ধাপে ই- পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করার পদ্ধতি। যেহেতু সবেমাত্র চালু হলো, এখনো অনেক ইনফরমেশন গ্যাপ আছে যেগুলো আস্তে আস্তে ক্লিয়ার হয়ে যাবে। আমিও আমার এই পোস্ট আপডেট করবো যদি নতুন কোন ইনফরমেশন পাই।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!