সেঞ্চুরি না করেও যে ইনিংসটি হাবিবুল বাশারের কাছে সেরা -Deshebideshe


ঢাকা, ০৬ মে – ৫০ টেস্টে তার সেঞ্চুরি মোটে তিনটি। ৯৯ ইনিংসে দুই ডজন হাফ সেঞ্চুরি। প্রথম সেঞ্চুরি দেশের মাটিতে, ২০০১ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে (২৮৩ মিনিটে ২০৯ বলে ১৫ বাউন্ডারিতে ১০৮)। দ্বিতীয় শতরানটি করাচিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০০৩ সালে (২০ আগস্ট, ২১৮ বলে ১১ বাউন্ডারিতে ১০৮)। আর তৃতীয় ও সর্বশেষ টেস্ট সেঞ্চুরিটি করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০০৪ সালের ২৮ মে, সেন্ট লুসিয়ায় (১৩১ বলে ১১৩)।

খুব স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে এই তিন সেঞ্চুরিই বুঝি খুব প্রিয় হাবিবুল বাশারের কাছে। হ্যাঁ, তিনটি সেঞ্চুরিই তার স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এর মধ্যে দেশের বাইরে করা দুটি সেঞ্চুরির কথা খুব বেশি মনে পড়ে এবং তার নিজের ক্যারিারের অন্যতম সেরা ইনিংস বলেও মনে করা হয়। এক সেন্ট লুসিয়ায় ক্যারিয়বীয়দের বিপক্ষে। আর দুই করাচিতে পাকিস্তানের সাথে করা সেঞ্চুরিটিও অনেক প্রিয় বাশারের।

কিন্তু অবাক করা সত্য হলো, ওই তিন টেস্ট সেঞ্চুরির কোনটাই সবচেয়ে প্রিয় নয় বাশারের। ওই তিন শতক বিশেষ করে সেন্ট লুসিয়ার ‘হান্ড্রেড’ আর করাচির সেঞ্চুরি ছাপিয়ে টেস্টে জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচকের সবচেয়ে প্রিয় ইনিংস হলো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০১ সালে হারারে মাঠে করা ৭৬ রানের (২১২ মিনিট, ১৩২ বলে ৯ বাউন্ডারিতে) ইনিংসটি।

(মঙ্গলবার) একান্ত আলাপে হাবিবুল বাশার নিজের ক্যারিয়ারে সেরা তিন ইনিংসের বর্ননা দিতে গিয়ে বলে ওঠেন, ‘আমার কাছে হারারের ওই ৭৬ রানের ইনিংসটিই বেশি প্রিয়। আমার স্মরণীয় তিন ইনিংস যদি বলেন, তাহলে সেন্ট লুসিয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচিতে করা সেঞ্চুরি অবশ্যই থাকবে। তবে প্রথম হলো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে খেলা ৭৬ রানের ইনিংসটি।’

গল্প বলে যান হাবিবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘তখন আমার টেস্ট ক্যারিয়ারে কোন সেঞ্চুরি ছিল না। তবে সেঞ্চুরি করতে না পারলেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে করা এ ৭০ প্লাস রানের ইনিংসটি অনেক কারণেই আমার কাছে স্পেশাল। প্রথম কথা, টেস্ট জগতে পা রাখার পর সেটাই ছিল আমাদের প্রথম বিদেশ সফর ও টেস্ট সিরিজ। কন্ডিশন সম্পূর্ন ভিন্ন। যার সঙ্গে আমাদের কোনই পরিচয় ছিল না। একদমই অনভ্যস্ত পরিবেশ। প্রচুর ঠান্ডা আবহাওয়া। খেলা হয়েছে সবুজ ঘাসের আচ্ছাদিত ‘গ্রিন টপে’। বল সুইং করতো সাপের মত। তখনকার জিম্বাবুইয়ান পেস বোলাররাও জোরে বল করতো। জোরে বলের চেয়েও কন্ডিশনটা ছিল টোটালি ডিফারেন্ট। টু বি অনেস্ট, ওই কন্ডিশনে তার আগে আমি কেন আমরা কেউই ব্যাটিং করিনি। হারারের উইকেটে বল সুইং করছিল প্রচুর। সেজন্যই ওই ইনিংসটি চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রথম ইনিংসে ৬৪ করেছিলাম। পরের ইনিংসে করেছিলাম ৭৬। সেটাই বেশ্রি প্রিয়। কারণ, উইকেট ও কন্ডিশন দুই’ই ছিল নতুন। বেশ চ্যালেঞ্জিং। যার সঙ্গে আমাদের কোনই অভ্যস্ততা ছিল না। সেখানে বিগ ফিফটিও আমার মনে হয় তখনকার অবস্থায় কম ছিল না। তাই ওই ইনিংসটি স্পেশাল।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটির কথা বলতে গিয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘সেন্ট লুসিয়ার ইনিংসটিকেও পিছিয়ে রাখতে চাই না। ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রথমবার খেলতে যাওয়া এবং গিয়েই ক্যারিবীয় সব দ্রুত গতির বোলার পেড্রো কলিন্স, ফিদেল এডওয়ার্ডস, জারমেইন লসন আর টিনো বেস্ট- এই চার ফাস্ট বোলারের মুখোমুখি হয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে সেঞ্চুরি অবশ্যই পুলক জাগানো অনুভুতি। তাই সেন্ট লুসিয়ার ইনিংসটিকেও পিছিয়ে রাখার কোনই সুযোগ নেই। সেটাও আমার নিজের খেলা খুব প্রিয় ইনিংস।’

এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলা দুর্দান্ত পেস বোলিং অ্যাটাক। ওই দিনের ব্যাটিংটা মন মত হচ্ছিল। সেদিন ছিল এমন এক দিন, যেদিন সব কিছু মন মত হয়ে যায়। আমার সেন্ট লুসিয়ার ইনিংসটিও ছিল ঠিক তেমনি। আমি যা করতে চেয়েছি। করতে পেরেছি। তাই হয়েছে।

সেবার পাকিস্তানে গিয়ে আমি রান করেছিলাম। করাচিতে সেঞ্চুরির পর পেশোয়ারে আমি আরও একটি ৯৭ রানের ইনিংস খেলেছিলাম; কিন্তু সেঞ্চুরির কথাই বেশি মনে হয়। যদিও করাচির উইকেটি ফ্ল্যাট ছিল; কিন্তু তার মধ্যেও শোয়েব আখতার বেশ জোরের ওপর রিভার্স সুইং করাচ্ছিল।

লেগস্পিনার দানিশ কানিরিয়ার বলও ঘুরছিল বেশ। খুব সম্ভবত ওমর গুল আর সাব্বির আহমেদও ওই টেস্টে বেশ সমীহ জাগানো বোলিং করেছিলেন। এমন এক সাঁড়াসি বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে শতরান সহজ ছিল না। এখনো মনে আছে, প্রথম ইনিংসে আমি ৭১ রানে আউট হয়ে গিয়েছিলাম; কিন্তু পরের ইনিংসে ঠিক শতরান করেই সাজঘরে ফেরত আসি।’

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ০৬ মে





Source link

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!