সূর্যাস্তের সাক্ষী বাটাম দ্বীপ

আমাদের প্লেন যখন চাঙ্গি এয়ারপোর্টে নামলো, তখন দূর থেকে যেন ডাক দিলো কোনো ঘনিষ্ঠজন নয়, এক জমকালো খয়েরি সন্ধ্যা!

উড়ানযাত্রায় রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের আতিথেয়তা খারাপ বলবো না। মধ্য এপ্রিলের সেই সন্ধ্যায় তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা বেশ সহনীয় বলেই মনে হলো। তবে ঝকঝকে চাঙ্গি এয়ারপোর্টটাকে বিশালতার ব্যাপ্তিতে দুবাই এয়ারপোর্টের মতো বড় মনে হলো না। বেশ ছিমছাম, গোছানো মনে হলো।

দুই বাংলাদেশিকে দেখে সুদর্শন ইমিগ্রেশন অফিসার জানতে চাইলেন, ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কিনা? আমরা ভিজিটর হিসেবে ঘুরতে এসেছি শুনে পাসপোর্ট চেক করলেন যথারীতি। ডাবল এন্ট্রি ভিসা দেখে আবারও জিজ্ঞাসা, অন্যদেশে যাব কিনা? ’জ্বি, যাওয়ার ইচ্ছা আছে’ শুনেই পাসপোর্ট কর্তার দমাদম সিলমোহর। যাত্রাসঙ্গী বন্ধু ইমনের বিশ্বজয়ের ভুবনভোলানো হাসি দেখে মনে হলো; যেন লি কুয়ান নয় এই মুহূর্তে সেই দেশটির জাতির পিতা!

ট্যাক্সি খুঁজতে গিয়ে বড়সড় লাইনে দাঁড়াতেই দুজনে বুঝে নিলাম, কাকে বলে জগতে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন! এবারে আমাদের গন্তব্য লিটল ইন্ডিয়ায়। যেখানে মূলত টুরিস্টদের থাকার জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী অগুণতি হোটেল রয়েছে। সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ হলেও বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশের তালিকায় অনেক আগেই নিজের নাম খোদাই করেছে।

সেই রাতে ডিনার করতে বেরুলাম, বাঙালিদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত মুস্তফা সেন্টারে। চীনা, মালয়, ভারতীয়দের মুখাবয়ব দেখতে দেখতে, ভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির বিষয়টি সামনে এলো। সিঙ্গাপুরে প্রায় ৭৫ ভাগই চীনা বংশোদ্ভুত, ১৪ ভাগ মালয়। কিন্তু আচরণে মনে হলো ওরা সিঙ্গাপুরিয়। একটাই জাতি। আমাদের দেশে যেমন আদিবাসীরা  পাহাড়ে বসবাসে আগ্রহী, মূলধারায় মিশতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না; সিঙ্গাপুরে কিন্তু তেমন নয়। আদিবাসী মালয়রা সেখানে বরং মূলধারায়  বসবাস করে একধরনের তৃপ্তিবোধ করেন।

ডিনারের পাশাপাশি অভিবাসীদের কাছ থেকে সিঙ্গাপুরের কোন জায়গা কেনাকাটা-ঘুরাঘুরির জন্য উৎকৃষ্ট, সে সম্পর্কে ধারনা পেলাম। ’হোটেল ডিকশন’ মাঝারি মানের হোটেলে হলেও প্রভাতে বুফ্যে ব্রেকফাস্ট ছিলো ফ্রি। সেখানে বেশ ক‘জন বাংলাদেশি পর্যটকের সাথে সৌজন্য বিনিময় হলো। এদেরই একজন শরিয়তপুরের নাঈম শেখ। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এই ভদ্রলোকের কাছে জানা গেল, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যয়বহুল হলেও ফলদায়ক। প্রচুর বাংলাদেশি, নেপালি, শ্রীলঙ্কান ছাড়াও পাশ্বর্বতী থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম থেকে লোকজন প্রতিদিনই এখানে ছুটে আসছেন।

পরদিন সকালে আবার শহরটি ঘুরে ঘুরে দেখি, এখানে রাস্তায় কোনো রাবিশের সন্ধান পেলাম না। রাস্তায় সিগারেটের বাট ফেলে দিয়ে ধরা পড়লে ১০ ডলার গুণতে হয় জরিমানা। মেট্রোতে চড়ে রওয়ানা দিই, সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় নাগোরদোলা ‘সিঙ্গাপুর ফ্লাইয়ার’ দর্শনে। এর অবস্থান মেরিনা বে। এটাকে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে উচুঁ নাগরদোলা বা ফ্যারিস হুইল, যার মাধ্যমে আপনি পুরো সিঙ্গাপুর শহর দেখতে পাবেন। আর আপনি চাইলে নাগোরদোলাতে অবস্থানকালীন আপনার ডিনারটাও সেরে নিতে পারেন! ছোটবেলা ভাবসম্প্রসারণে পড়েছি, ‘অর্থই অনর্থের মূল’! এখন দেখছি; অর্থ থাকলে এ যুগে আর  কোনো কিছুই সাধ্যাতীত নয়!

চীনে কখনো যাইনি, কিন্তু এখানে এসে দেখা হচ্ছে প্রচুর চীনা মুখ। অতঃপর দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতেই যেন ঢুকে পড়ি ‘চায়না টাউনে’। যতোই দেখছি, চীনাদের প্রভাব দেখে ততোই শিহরিত আমি, কি নেই ওখানে? চীনের ঐতিহ্যবাহি খাবার থেকে শুরু করে নান্দনিক সব পোশাক, উজ্জ্বল লাল লণ্ঠন সবই দেখছি সহজলভ্য। জনশ্রুতি, পৃথিবীর বুকে এখানেই প্রথম চীনারা বসতি স্থাপন করে।

সিঙ্গাপুর এক জলঘেরা দ্বীপদেশ। উত্তরে মালয়েশিয়াকে পৃথক করা জোহর প্রণালী, দক্ষিণে ইন্দোনেশিয়ার বাটাম দ্বীপকে পৃথককারী সিঙ্গাপুর প্রণালী, পশ্চিমে মালাক্কা প্রণালীর দক্ষিণ মুখ আর পূর্বে দক্ষিণ চীন সাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ ঘিরে রেখেছে এই অনিন্দ্য সুন্দর দ্বীপ দেশটিকে। প্রভাবটা আসলে দক্ষিণ চীন সাগরেরই। তাই সিঙ্গাপুরে বেড়াতে এসে আপনি জলে ভাসবেন না; এটা হয় নাকি?

এক জায়গায় জলের রঙ গাঢ় নীল, আরেক জায়গায় টারকোয়েজ ব্লু। মনে হলো, মরুভূমিতে যেমন মরীচিকা ধাঁধা লাগিয়ে দেয় পর্যটকদের, এখানেও ঠিক তেমনই। আমরা ভাসছি জলে। সিঙ্গাপুর থেকে ফেরি ছেড়েছে সেই সাত সকালে। প্রথমে মেট্রোতে চেপে আমরা আসলাম সোজা হারবারফ্রন্টে। এখান থেকেই যাচ্ছি, বালি এবং জাকার্তার পর ইন্দোনেশিয়ার তৃতীয় ব্যস্ততম প্রবেশদ্বার বাটাম দ্বীপ দর্শনে। ইন্দোনেশিয়ার সাথে রয়েছে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। সেই কারণে বাংলাদেশিদের জন্য রয়েছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা। 

একপাশে সানতোসা আইল্যান্ড, অন্যপাশে সিঙ্গাপুর সমুদ্র-বন্দরকে সাক্ষী রেখে আমাদের চোখ আটকে যাচ্ছে সৌন্দর্যের প্রাচুর্যে। বন্দরের দিকে জাহাজ ভিড়তেই দেখি, পাহাড়ের বুকে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘ওয়েলকাম টু বাটাম’। কেন বাটাম এতো বিখ্যাত? কেন প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের প্রাণের স্পন্দনে ১০ লাখ মানুষের শহর বাটাম আলোড়িত হয়। কারণ একটাই, অধুনা ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর এই ত্রিবিধ দেশের উৎপাদনের ভিত হিসেবে ধরা হচ্ছে বাটাম দ্বীপকে। বাটাম চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সমতুল্য। পরিকল্পিতভাবে এখানে রাখা হয়েছে ব্যবসা এবং বিনোদনের সুব্যবস্থা।

ইন্দোনেশিয়া ধনী দেশ না হলেও তাদের ইমিগ্রেশন সিস্টেম আমাদের চাইতে উন্নত আর দ্রুততর। আরো একবার পাসপোর্টে সিল। ভ্রমণ তালিকায় যুক্ত হলো ভিসামুক্ত একটি দেশ। কোনো ক্যামেরা নয় চোখের পলকে ধারাবাহিকভাবে নজরবন্দী করছিলাম, ইনফরমেশন সেন্টার, মানি এক্সচেঞ্জ, ফাস্টফুডের দোকান, প্রসাধনীর দোকান, সঙ্গে চমৎকার দেহবল্লরির অধিকারী গুচ্ছ গুচ্ছ তরুণী। ক্ষিদের জ্বালায় সঙ্গীর উসখুসের ভেতরেই কিনা গুচ্ছ গুচ্ছ তন্বি তরুণীরা পালালো!

কয়েকটি ফুড কোর্টে খানিকক্ষণ উঁকি মেরে একটিতে ঢুকলাম। ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় ব্রেকফাস্ট ‘নাসিং গোরিং’। ভাতের সঙ্গে পছন্দ অনুযায়ী ভাজা মাছ অথবা ডিম পোচ। ব্রেকফাস্ট বিল ১ লাখ ২৫ হাজার ইন্দোনেশিয়ার রুপি!  শুনে আঁতকে ওঠার কিছুই নেই; ওখানে টাকার মান এমনই। ১ বাংলাদেশি টাকার বদলে আপনি পাচ্ছেন ১৬৫ ইন্দোনেশিয় রুপিয়া।

কফির চুমুকে তৃপ্ত হয়ে ইনফরমেশন সেন্টারে চোখ রাখি। পরনে জিন্স, কুর্তা, তার সঙ্গে ম্যাচিং করানো ক্রিস্ট্রাল বসানো মাথার স্কার্ফ; নাম তার ডিয়ান পেলেঙ্গি। পুলক জাগানো হাসিতে ভদ্রমহিলা সম্ভাষণ জানালেন। বাংলাদেশি শুনে সাশ্রয়ী প্যাকেজে ডে ট্যুরের ব্যবস্থা করে দিলেন। পেয়ে গেলাম সিঙ্গাপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডি টুরে আসা ছাত্রদের সাথে দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের নিশ্চয়তা। ভাবছি, মিনিবাসে চড়ে একদিনেই শহরটা প্রদক্ষিণ কিভাবে সম্ভব? ওইদিকে বাসের ভেতরে চলছে হরদম বিভিন্ন দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের হল্লা, গান, খুনসুটি, র‌্যাফেল ড্র… আর কিছু সময় পরপর গাইডের ইংরেজি ভাষায় পরবর্তী স্পটের স্থাপত্যকীর্তি গাথা‘র বর্ণনা।

এরপরেই গাইড নিয়ে গেলেন, বাটামের অন্যতম প্রধান ‘মসজিদ রায়া’। এর সারাদেহ আছড়ে পড়ছে চমৎকার কারুকার্য শোভিত শিল্পের বুনোট। পিরামিড আদল। একসঙ্গে ভেতরে সাড়ে তিন হাজার আর বাইরে ১৫ হাজার মুসল্লি এখানে নামাজ আদায়ে সক্ষম। এরপর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘দুতা বৌদ্ধ মন্দির’ দেখবার পালা। বারবার নৈঃশব্দের ভেতর দিয়ে জেগে ওঠছি, আর দেখছি কী করে বৌদ্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা মেতে ওঠেন আরাধনায়? মনোলোকে প্রার্থনার সুর-ছন্দ মগ্নতর করার জন্যই বুঝি কিছু সময় নিভিয়ে রাখতে হয় দু‘চোখের পাতা!

কোনো কোনো মূর্তির গায়ে ফুলের মালা, আশপাশে জ্বলছে প্রদীপ আর ধুপ-ধোনা। এখানেই গাইড জানালেন, বোধিসত্ত্ব মঞ্জুশ্রী এক বৌদ্ধ দেবতা। যারা এর পুজা করেন, তারা জ্ঞান, উত্তম স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধি, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং বাগ্মিতা লাভ করেন। বয়সে চল্লিশ উর্ধ্ব গাইড উইরানতো দুদো, মিশুক আর বাকপটু। সদালাপী মানুষটি জানালেন, চাকরি জোগাতে ব্যর্থ হয়ে এখন পর্যটকদের আনন্দদানই তাঁর পেশা এবং একমাত্র নেশা। এখানকার ক্যাথলিক চার্চ, রিসোর্ট, শপিংমল, ম্যাসেজ পার্লার কোনো কিছুই দেখানোর বাদ রাখলেন না।

ম্যাসেজ পার্লারে এক ঘণ্টার ঐচ্ছিক ম্যাসেজ, যা প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। শরীর মর্দনের পর দেওয়া হলো ইন্দোনেশিয় বিখ্যাত শরবত। তারপর গাইডের নির্দেশনায় আমরা ছুটলাম ‘বেরেলাঙ সি ফুড’ রেঁস্তোরায়। ভারত মহাসাগরের নীল জলরাশির উপর ভাসছে পাশাপাশি বেশ কয়েকটি রেঁস্তোরা। রাজদরবারের মতোই লম্বা টেবিল। প্রতিটি টেবিলেই ইন্দোনেশিয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া, সারি সারি ফুলের টব, শিল্পকর্ম। থরে থরে সাজানো প্লেট, গ্লাস ও চামচ। ‘জিলবুবস’ আর আঁটসাঁট পোশাকে মেহমানদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন নারী পরিবেশকরা। এখানকার নারীদের ফ্যাশন ট্রেন্ড ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশেষায়িত। খ্রিস্টান আর বুদ্ধিস্টরা পরিধান করেন বাহারি মিনি স্কার্টের সঙ্গে ডেনিম শার্ট বা সলিড কালারের টপ।

গভীর সমুদ্রে জেলেরা যেমন জাল থেকে তুলে আনা মাছ রেঁধে খায়, তেমনই তরতাজা আর দক্ষ পাচকদের তৈরি আহার পরিবেশন করা হলো। ওদের চেষ্টা সম্ভবত সি ফুড যেন তার নিজস্ব স্বাদ হারিয়ে না ফেলে। আড়ম্বরপূর্ণ লাঞ্চ সেরে মনে হলো, নীল ঝিনুকের শাঁস, মুচমুচে হাড়ের কাঁকড়া, ফ্রায়েড রাইস, নানা জাতের ইন্দোনেশিয় ইয়োগার্ট আর সালাদ বহুকাল জিহ্বার স্মৃতিতে লটকে থাকবে!

খাওয়া-দাওয়ার পর বাস ছুটলো কিছুটা রিমোট এরিয়ার দিকে, নিও কোস্টারিনা অভিমুখে। বিশাল এই অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ঘুরতে ঘুরতে বাঘ, সিংহ, ঘোড়া, সাপ, গরু, মোরগসহ অনেক প্রাণীদের স্ট্যাচুর সাথে বন্ধুত্বও হয়ে গেল। সঙ্গে বোনাস হিসেবে পাওয়া উপজাতিদের সার্কাস আর ক্রীড়াশৈলিতেও মনটা নড়েচড়ে ওঠলো। গাড়ি ছুটছে ঘড়ির পেন্ডুলামের সাথে তাল মিলিয়ে। গাইড বেশ দৃঢ়তায় বললেন, জাপান সূর্যোদয়ের দেশ হলে, ইন্দোনেশিয়া কেন নয় সূর্যাস্তের? তাঁর বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতেই কিনা ধার্য হলো; ‘বেয়ারল্যাং ব্রিজ’-এ আজকের সূর্যোদয়।

সেতু জীবনে অনেকবারই দেখেছি, কিন্তু ‘বেয়ারল্যাং ব্রিজ’ নামের ঝুলন্ত সেতু দেখে তো আমাদের চোখ ছানাবড়া! এ যে শ্বাসরুদ্ধকর সৌন্দর্য! পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে আছে সবুজের সমারোহ, সাগর সৈকত এবং ঝুলন্ত সেতু! কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতে হবে বাটাম সেন্টার। ধরতে হবে সিঙ্গাপুর ফিরে যাবার ফেরি। পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম দেশ অথচ ধর্ম-সংস্কৃতি-জীবানাচরণে কতো না ধর্মনিরপেক্ষ। এখানে যেমন ক্যাথলিক চার্চ আছে তেমনি আছে স্থাপত্যকীর্তিতে অনন্য সব সুন্দর মসজিদ। আছে প্যাগোডা আর মন্দির এবং আছে রাস্তাজুড়ে বহাল তবিয়তে কৃষ্ণ, গণেশ, কার্তিক, হনুমানসহ অনেক দেব-দেবীর মূর্তি।

এ থেকেই বুঝা যায়, পরমত ও পথকে ইন্দোনেশিয়রা কতোটা শ্রদ্ধা করেন। আসলেই একটি সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গড়তে প্রয়োজন ধর্মীয় বহুত্ববাদ যা কিনা একটি গণতান্ত্রিক সমাজেরও ভিত্তি; ইন্দোনেশিয়ায় না আসলে কোনোদিনই তা উপলব্ধি করা যেতো না।

– মোস্তফা মহসীন, জার্মানির ডুসেলডর্ফ থেকে ।

নিউজ সোর্স – বিডিনিউজ ২৪

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!