সিঙ্গাপুরে ওয়ার্ক পারমিট, এস পাসধারী শ্রমিকদের জন্য নতুন নির্দেশনা

সিঙ্গাপুরে ওয়ার্ক পারমিট এবং এস-পাস আছে নির্মাণ খাতের এমন শ্রমিকদেরকে আগামীকাল সোমবার থেকে ১৪ দিনের স্টে-হোম বা ঘরে থাকতে হবে। সেখানে নির্মাণ শ্রমিকদের মধ্যে বেশি করে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে শনিবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন স্ট্রেইটস টাইমস। এতে বলা হয়েছে, ঘরে থাকার এই কর্মসূচি ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৪ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি ডিপার্টমেন্ট পাস আছে এমন শ্রমিকদেরও এই নির্দেশ মেনে চলতে হবে। উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরের নির্মাণ শ্রমিকদের মধ্যে বড় একটি অংশ বাংলাদেশি। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এসব শ্রমিক ও আবাসিক ভবনের বাইরে যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে যাতে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত না হয় সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নতুন এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা সংক্রমণ ঘটেছে এসব নির্মাণ খাতে। এ ছাড়া কর্মস্থানে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটতে সহায়ক হয়েছে। এর প্রেক্ষিতেই সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। এখানে নির্মাণ খাতে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে অবস্থান করছেন ২,৮৪,৩০০ শ্রমিক। এরই মধ্যে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্পর্কিত সেবা, বিদ্যুত সরবরাহ লাইনের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া সাধারণ নির্মাণ কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছেন। যেসব কাজ চালু রয়েছে তাকে অত্যাবশ্যকীয় সেবাখাত হিসেবে ধরা হয়েছে। ফরেন এমপ্লয়ী ডরমেটরিজ অ্যাক্্ট ২০১৫ এর অধীনে যেসব বিদেশী শ্রমিকের ডরমেটরি অথবা আইসোলেশন এলাকা আছে, সেখানে অবস্থানরতদের সর্বশেষ নির্দেশের বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ, সেগুলো এরই মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনার অধীনে নেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, এমপ্লয়মেন্ট পাস আছে যাদের তারা খুব কম ওয়ার্ক সাইটে যান এবং বসবাস করেন, এমন স্থানে গাদাগাদি নেই। তাই নতুন নির্দেশ তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এতে আরো বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য এ সময়কালে সব ব্যবস্থাপনা করতে হবে নিয়োগকারীদের। এর মধ্যে তাদেরকে খাবার ও সুস্থ দেখাশোনাও করতে হবে। যদি কোনো শ্রমিক অসুস্থ বোধ করেন তাহলে তাকে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা ঠিকমতো মানা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা নিয়মিত শ্রমিকদের চেক করবেন। এ ছাড়া বিদেশী শ্রমিকদের সমস্যা মেটানোর জন্য দায়ী থাকবেন নিয়োগকারীরা। এমওএম-এর সঙ্গে মোবাইল নাম্বার রেজিস্টার্ড থাকতে হবে আপটুডেট।

নিউজ সোর্স – মানবজমিন

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!