সবাই প্রথম বিদেশ ভ্রমণে যে ১৬টি ভুল করে

প্রথমবারের মতো ফ্লাই করতে যাচ্ছেন? একটু থামুন। আরামদায়ক ও নির্বিঘ্ন বিদেশ ভ্রমণে যে বিষয়গুলো খেয়াল না করলেই নয়, যেসব ভুল সচরাচর হয়েই থাকে, চট করে সেগুলোর একটা তালিকায় চোখ বুলিয়ে নিন। জানা থাকলে এই ১৬ বিড়ম্বনা এড়ানো আসলে খুবই সহজ—

নির্দিষ্ট আসন বুকিংয়ে ভুল হওয়া চলবে না: জানালার ধারে বা সারির শুরুতে সিট নিতে হলে একটু আগে আগে খোঁজ নিতে হবে। যদি সেটা মনে না থাকে বা টিকেট কাটার সময় পছন্দমতো সিট নেওয়ার সুযোগ না থাকে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখুন তা মেলে কি না।

অথবা এক্সপার্টফ্লায়ারের মতো ওয়েবসাইটের সাহায্যও নিতে পারেন। এসব সাইট আপনার পছন্দের আসন খালি হচ্ছে কি না তার আপডেট জানাবে। কারো যাত্রা বাতিল বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ আপনার পছন্দসই আসনটি খালি হতে পারে, জানতে পারলে তা বদলে নেওয়ার সুযোগ থাকে।

বাড়তি জিনিসপত্র নেওয়ার ঝামেলা: ভ্রমণের আগে যেটা প্রায় সবার হয়, দরকারের চেয়ে বেশি কাপড়চোপড় নেওয়া। যেসব জিনিস না হলেই না, শুধু সেগুলো নেওয়ার চেষ্টা করুন।

যুতসই সাইজের হাতব্যাগ না নেওয়া: হাতব্যাগটা কোন সাইজের হবে, তা ঠিক করতে হয় ভ্রমণ দেশের ভেতরে না বাইরে, সেই বিবেচনায়। দেশে হলে একরকম আর বিদেশে হলে আরেকরকম। আগে থেকেই জেনে নিতে হবে, আপনার এয়ারলাইনস কতটুকু সাইজ বা ওজনের হাতব্যাগের অনুমোদন দেয়।

হাতব্যাগে বেশি পরিমাণে তরল বহন: এই ভুলটা অনেকেই করেন। জেল, অ্যারোসল বা তরল ওষুধ নিতে গেলে অনেকে বেশি পরিমাণে নিয়ে ফেলেন। চেষ্টা করতে হবে, ১০০ মিলিমিটারের বেশি না নেওয়ার।

পাসপোর্টের মেয়াদে বেখেয়াল: হঠাৎ ভ্রমণের পরিকল্পনা সেরে ফেললেন, টিকেট-ভিসার ঝামেলা শেষ, দেখলেন পাসপোর্টের মেয়াদ নেই। এর চেয়ে বিরক্তিকর কিছু আর হতে পারে না। কিছু কিছু দেশ রয়েছে, পাসপোর্টের মেয়াদ ছয় মাস না থাকলে সেখানে ভ্রমণের অনুমতিই দেবে না।

ভ্রমণপথ সম্পর্কে অপরিষ্কার ধারণা: দুনিয়ার এ মাথা ও মাথা ভ্রমণে সময়জ্ঞান খেয়াল রাখা জরুরি। ঠান্ডা মাথায় সময়ের পরিবর্তনগুলো জেনে নিতে হবে। কখন কোন বিমানবন্দরে নামছেন বা ছাড়ছেন, সেখানে সময়ের কোন ব্যত্যয় ঘটছে কি না, তা আগে থেকে জানা থাকলে শিডিউল-ভ্রান্তির মতো বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইস্তাম্বুল যেতে কতক্ষণ লাগে বা সেখানে নামার পর সময়টা কী হয়, এসব নিজের কাছে পরিষ্কার থাকা জরুরি। হোটেল, ফ্লাইট, ট্রেন, বাস বা ট্যুর গ্রুপের সময় শিডিউল ঠিকঠাক রাখতে স্থানীয় সময়ভেদ সম্পর্কে পরিষ্কার থাকা দরকার।

চরম ব্যস্ততায় পথ হারানো: ভ্রমণকালে ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ পথ হারানোর মতো ঘটনা ঘটতেই পারে। এতে অনেক সময় মজাও হয়। চলতি পথে একটা ভুল মোড় নিলেন, দেখলেন নতুন একটা রেস্তোরাঁ বা সৈকতে চলে গেছেন। একটা ম্যাপ সঙ্গে রাখা যেতে পারে। সময়মতো সব জায়গায় যেতে হলে পথ ভুললে চলবে না। মোবাইলের গুগল ম্যাপে অফলাইন অপশনটা চালু রাখতে পারেন। ইন্টারনেট না থাকলেও যাতে কাজে লাগানো যায়।

মোবাইল ডাটার খোঁজ নেওয়া: দেশের বাইরে যেতে হলে বিদেশে থাকাকালে মোবাইল নেটওয়ার্কের ডাটা এবং কলের সুযোগসুবিধা জানা হয়ে ওঠে না অনেক সময়। এটিও কম গুরুত্বের দাবিদার নয়।

বেশি পরিমাণে টাকা ভাঙানো: ফিটফাট ভ্রমণ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনেকে বেশি পরিমাণে টাকা ভাঙিয়ে নেন। এটি একটি মাত্রায় করা জরুরি। কিন্তু নগদ অর্থ বেশি থাকলে চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। বাজেট মোতাবেক একটা স্বাভাবিক পরিমাণ টাকা গন্তব্যের দেশের মুদ্রায় ভাঙিয়ে নিন। বেশিরভাগ দেশে নগদ অর্থ ফুরিয়ে গেলে ক্যাশ করা বেশ কঠিন।

ভ্রমণের কথা ব্যাংককে জানানো হয় না: হতবাক হয়েও কিছু করার থাকে না, যদি দেশের বাইরে গিয়ে দেখেন আপনার ক্রেডিট কার্ডটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভাবছে, আপনার কার্ড হয়তো চুরি হয়ে গেছে। যাওয়ার আগে অবশ্যই ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ভ্রমণ বিষয়ে জানাতে হবে।

ক্রেডিট কার্ডে খরচায় দর দেখার দরকার আছে: ক্রেডিট কার্ডে বিল দিতে গেলে স্থানীয় মুদ্রায় দেবেন না কি ডলারে দেবেন, বিক্রয় প্রতিনিধি বা হোটেল কর্তৃপক্ষের এমন প্রশ্নে স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ করা ভালো। সিংহভাগ সময় স্থানীয় মুদ্রায় ভালো দর পাওয়া যায়। এ ছাড়া কার্ডে কেমন হারে ফি কাটছে তার দিকেও নজর রাখতে হবে।

আরামদায়ক জুতা না পরা: ভ্রমণকালে নতুন জুতাজোড়া পরার কোনো মানে হয় না। যেগুলো বেশ কিছুদিন ধরে পরা হয়েছে, ভ্রমণে থাকা অবস্থায় পায়ে আরাম হয় এমন জুতা পরাই ভালো।

ঘাটাঘাটি এড়িয়ে যাওয়া: পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই ঘোরাঘুরিতে এক ধরনের মজা নিশ্চয় আছে। তবে তাতে অনেক কিছু মিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কয়েক মিনিটের গুগল সার্চে ভ্রমণস্থলের খুটিনাটি জেনে নেওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ভ্রমণপথ ও সেখানকার অবস্থান সম্পর্কে ভালো ধারণা নেওয়া।

পরিকল্পনার বহর বড় করা: অনেকে খুব অল্প সময়ের ভ্রমণে বিভ্ন্নি দর্শনীয় স্থানে যাওয়া, খাবার-দাবার পরখ করা এবং সাংস্কৃতিক জীবন দেখার কাজটি তাড়াহুড়ো করে সেরে ফেলতে চান। এতে বেশিরভাগ সময় হিতে বিপরীত হয়ে থাকে। ফলে কম সময়ের মধ্যে পরিকল্পনার বহর বড় করা যাবে না। ভ্যাকেশনের মধ্যেও ভ্যাকেশনের প্রয়োজন পড়ে অনেক সময়।

অতিশয় নিরাপত্তা খোঁজা: ছুটি কাটাতে গিয়ে সেখানকার মজাটা নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। নতুন নতুন খাবার, স্থানীয়দের সঙ্গে আড্ডা এবং পারিপার্শিক পরিবেশটা বোঝার চেষ্টা করা খুবই দরকারি।

মাথা গরম করা: বাসাবাড়িতে বা রাস্তাঘাটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে, ট্রেনের টিকেট হারানো বা হোটেল বুকিং বাতিল হওয়ার মতো হতাশাজনক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। তাতে শোরগোল করে কোনো লাভ হয় না। দিন শেষে মাথাটা ঠাণ্ডা রেখে এগোলে শেষমেশ সুন্দর একটি ফলাফল দাঁড়ায়।

নিউজ সোর্স – দ্যা প্রবাসী

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!