যাত্রী সংকটে একাধিক অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলের সম্ভাবনা

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘ ৬৯ দিন পর সোমবার থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। এদিন ভোর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক এএইচএম তৌহিদ উল আহসান জাগো নিউজকে বলেন, সকাল থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত পাঁচটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে অভ্যন্তরীণ সৈয়দপুর ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সকাল ৭টায় ইউএসবাংলা ও নভোএয়ার, ৭টা ৪৫ মিনিটে নভো এয়ার ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং ৮টা ৩০ মিনিটে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনে ঢাকা থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম ও শরীয়তপুরের তিন অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ২৪টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল। তবে যাত্রী সংকটের কারণে তিন থেকে চারটি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।

এদিকে করোনা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে প্রবেশের আগে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পক্ষ থেকে যাত্রীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক দেওয়া হচ্ছে ।

শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে যাত্রীরা নির্দেশ মতো নির্ধারিত স্থানে দাঁড়াচ্ছেন কিনা, সেসব তদারকিতে কাজ করছেন বেবিচকের নিরাপত্তা কর্মীরা।

নভোএয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একজন যাত্রীর বিমানবন্দরের ঢোকার পর থেকে উড়া পর্যন্ত যাত্রার প্রতিটি স্টেপে সিভিল এভিয়েশনের দেয়া নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

দেশে করোনা প্রকোপ কমাতে ২১ শে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক রুটে এবং ২৪ মার্চ থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৮ দফা বাড়িয়ে ১৫ জুন পর্যন্ত করা হয়। তবে ১ জুন থেকে অনুমতি দেয়া হয় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলের।

বাংলাদেশে চারটি এয়ারলাইন্স কোম্পানিই অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। অভ্যন্তরীণ আকাশপথে চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও বরিশাল রুটে প্রতিদিন ১৪০টির মতো ফ্লাইট চলাচল করত। তবে ২০ মার্চ থেকে ৩ মাসের জন্য ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সই ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।

ভাড়া
বিমানের যাত্রী সংখ্যা কমলেও অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়া আগের মতোই থাকছে বিমান বাংলাদেশের সৈয়দপুর রুটের সর্বনিম্ন ওয়ানওয়ে টিকেট ধরা হয়েছে ৩৩০০ টাকা এবং চট্টগ্রামে ও সিলেটে ৩১০০ টাকা।

ইউএস-বাংলার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুর সর্বনিম্ন ওয়ানওয়ে ভাড়া ২৯৯৯ এবং সিলেটের ৩২০০ টাকা।

নভোএয়ার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে সর্বনিম্ন ওয়ানওয়ে ভাড়া ২৫০০ টাকা, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে ৩২০০।

Source Link

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!