ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার লকডাউন ভেঙে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক

ধানের ওপর দিয়ে ট্রাক্টর চালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সাত পুলিশসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষ চলাকালে দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর পুলিশ শটগান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেলের আঘাতে আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কবির হোসেন, এসআই মো. নজরুল ইসলাম, মো. তাহের, কনস্টেবল রাজু বড়ুয়া, মো. তাহের, মো. তসলিম, মো. শফিক। আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। দুই পক্ষকে ডেকে এ আলোচনায় বসে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের ডিঘর ও সূচিউড়া এলাকার তিতাস নদীর পাড়ে সরুর রহমান গোষ্ঠীর ফারুক মিয়া নামে একজন ধান মাড়াই করছিল। এ সময় বেলায়েত হোসেনের গোষ্ঠীর কামাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি ধানের ওপর দিয়ে ট্রাক্টর চালিয়ে যান। এ নিয়ে ফারুক মিয়া ও কামালের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। বিষয়টি দুই গোষ্ঠীর মধ্যে জানাজানি হলে তারা সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রাত ৯টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। পরে শটগান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছোয়াব আহমেদ রিতুল জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। উভয় পক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে মীমাংসা করার জন্য। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।

নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কবির হোসেন জানান, ধানের ওপর দিয়ে ট্রাক্টর যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তিনিসহ মোট সাত পুলিশ সদস্য ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন।

অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ওই পুলিশ অফিসার সোমবার বিকালে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জেলার লকডাউন উপেক্ষা করে গত শনিবার সরাইল উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ এক ইসলামি আলোচকের জানাজায় যোগ দেন। এই ঘটনার পর সরাইলের আটটি গ্রামের মানুষকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। লোকজনের জমায়েত প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে সরাইলের ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

নিউজ সোর্স – বাংলা ট্রিবিউন

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!