বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়ছে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৫শ’ নাগরিক

ঢাকা থেকে দুটো চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফিরে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও পাঁচ শতাধিক নাগরিক। আগামী সোমবার ও বৃহস্পতিবার নন সিডিউল কমার্শিয়াল ফ্লাইট দুটো তাদের নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করবে। সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান জানান, তারা অনেক আগেই দুটো ফ্লাইটের অনুমোদন চেয়েছিল এবং ইতোমধ্যে তা অনুমোদনও করা হয়েছে। বিদেশীরা যখনই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে যেতে চান-তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে বেবিচক। বিমানবন্দরে সর্বাত্মক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার মাঝেই তাদের ফ্লাইট সার্ভিস নিশ্চিত করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দুনিয়াব্যাপী করোনার কারণে বাংলাদেশে অবস্থানরত অস্ট্রেলিয়ান কূটনীতিক, তাদের পরিবার এবং নাগরিকদের দেশে ফেরাতে আগামী ১৬ এপ্রিল একটি নন সিডিউল কর্মাশিয়াল ফ্লাইট ভাড়া করেছে ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস।

ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের দেশে ফেরাতে শ্রীলঙ্কার একটি নন সিডিউল কমার্শিয়াল ফ্লাইট ভাড়া করা হয়েছে। ফ্লাইটি ১৬ এপ্রিল বেলা ১১টায় ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। দূতাবাসের ফেসবুক পেজে এক বার্তায় অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের মধ্যে দেশে ফিরতে ইচ্ছুকদের শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সে রেজিস্ট্রেশন করার নির্দেশ দেয়ার পর সেভাবেই নাগরিকরা কার্যাদি সম্পন্ন করেছেন।

এদিকে একই কারণে মার্কিনীদের তৃতীয় ফ্লাইট ঢাকা ছাড়ছে আগামী সোমবার। এবারও শ’ তিনেক নাগরিক ঢাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজন্য ভাড়া করা হয়েছে কাতার এয়ারের একটি উড়োজাহাজ।

এ সম্পর্কে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ফ্লাইট যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিজেদের নাগরিকদের বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ভাড়া করা বিশেষ চার্টার্ড বিমানে দু’দফায় মার্কিন নাগরিকরা দেশে ফেরেন।

দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তৃতীয় ফ্লাইট প্রস্থানের তারিখ হিসেবে আগামী সোমবার ঠিক করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে চান তারা এই সুযোগটি গ্রহণ করতে পারেন। আপনার তথ্য সরবরাহ করুন। আপনার তথ্য নিশ্চিত করতে দূতাবাসকে কল করবেন না। আপনি যদি এই ফ্লাইটের কোন সিটের জন্য নিশ্চিত হন তবে আমরা ই-মেইল করব। আপনার ফ্লাইটের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কোন ই-মেইল না পেলে দয়া করে ঢাকার বিমানবন্দরে আসবেন না।

জানা গেছে, আগের দু’বারের মতো এবারের ফ্লাইটটিও ঢাকা থেকে দোহা হয়ে ওয়াশিংটন ডিসির ডালাস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছাবে। ফ্লাইটে থাকা মার্কিন নাগরিকরা নিজ খরচেই দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছে দূতাবাস। এর আগে মার্কিন নাগরিকদের নিয়ে বিশেষ দুটি ফ্লাইট ৩০ মার্চ ও ৫ এপ্রিল ঢাকা ছাড়ে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র্র দূতাবাস বলছে- শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, করোনার ভয়াবহতার আশঙ্কায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭৮টি দেশ থেকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, করোনা ভীতিতে গত ২৪ মার্চ সর্বপ্রথম ঢাকা ছাড়া শুরু হয় বিদেশী নাগরিকদের। সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল ঢাকা ত্যাগ করেন রাশিয়ান ১৭৮ নাগরিক। এর আগের দিন ৫ এপ্রিল বিকেলে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের ৩২২ নাগরিক ঢাকা ছাড়েন। এর আগে ২ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভাড়া করা ফ্লাইটে জাপানের ৩২৭ নাগরিক ঢাকা ছাড়েন। ৩০ মার্চ কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬৯ নাগরিক ঢাকা ছেড়ে যান। মার্চের ২৪ তারিখ মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সে দেশের ২৩০ জন এবং ২৫ মার্চ ড্রুক এয়ারের দুটি ফ্লাইটে ভুটানের ১২৪ নাগরিক বাংলাদেশ ছেড়ে যান। এ পর্যন্ত ঢাকা ত্যাগের বিদেশী নাগরিকের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। পরবর্তী দুটো ফ্লাইটে আরও অন্তত পাঁচ শতাধিক নাগরিক ঢাকা ছাড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তবে ওই দুটো ফ্লাইটে বড় দুজন কূটনীতিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ছাড়লেন ১২৩ জার্মান। নোভেল করোনা ভাইসের মহামারীর মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় বিদেশীদের বাংলাদেশ ছাড়ার ধারাবাহিকতায় এবার জার্মানির নাগরিকরা দেশে ফিরে গেলেন।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘বাংলাদেশে অবস্থানরত ১২৩ জন জার্মান নাগরিক শুক্রবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনেটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে নিজেদের দেশে রওনা হয়েছেন।’

এর আগে গত সোমবার ১৭৮ জন রুশ নাগরিক ঢাকা ছাড়েন। গেল সপ্তাহে জাপান দূতাবাসের চার্টার করা ফ্লাইটে দেশে ফেরেন দেশটির ৩২৫ জন নাগরিক। আর দুই দফায় ৫৯১ জন মার্কিন নাগরিকও ঢাকা ছেড়েছেন। এছাড়া সপ্তাহখানেক আগে মালয়েশিয়া থেকে আসা একটি উড়োজাহাজে সে দেশের ২২৫ জন ও ভুটান সরকারের ব্যবস্থাপনায় একইভাবে তাদের ১৩৯ জন নাগরিক ফিরে যান।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ১৬ মার্চ থেকে যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের অন্য সব দেশ থেকে যাত্রীদের আসা বন্ধ করে বাংলাদেশ। এরপর ২১ মার্চ থেকে ভারত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ওমান ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ সরকার। ওই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশগুলোর সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটও বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হলে ওপরে তা ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়; এরপরে তা ১৪ এপ্রিল করা হয়।

নিউজ সোর্স – জনকণ্ঠ

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!