বিমান যাত্রায় আসতে পারে অনেক বদল

করোনার জেরে গোটা বিশ্বই এখন থমকে ৷ অধিকাংশ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন খারাপ ৷ সব থেকে খারাপ অবস্থা অবশ্যই বিমান শিল্পের ৷ প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গোটা বিশ্বজুড়েই বন্ধ যাত্রী বিমান চলাচল ৷ তবে ধীরে ধীরে বেশ অনেক দেশেই শুরু হয়ে গিয়েছে যাত্রী বিমান পরিষেবা ৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-এর গাইড লাইন মেনে এখন বিমানবন্দরগুলিতেও অনেক বদল লক্ষ্য করা গিয়েছে ৷ কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে যাত্রী বিমান পরিষেবার নিয়ম কানুনে আসবে অনেক পরিবর্তন ৷ সেগুলো কী দেখে নিন –

অনলাইন চেক ইন: করোনা অতিমারির জেরে এখন অনলাইন চেক ইন করাটা প্রায় বাধ্যতামূলক হতে চলেছে ৷ বিমানবন্দরে চেক-ইন কাউন্টার থাকবে ৷ কিন্তু যাত্রীদের পরামর্শ, খুব প্রয়োজন না হলে এখন আগের থেকে অনলাইন চেক-ইন করে নেওয়াই ভাল ৷ পাশাপাশি বিদেশ যাত্রার সময় ডিজিটাল ইমিউনিটি পাসপোর্টের ব্যবস্থা করা হতে পারে ৷ ইমিউনিটি পাসপোর্ট অনেকটা ইয়েলো ফিভার কার্ডের মতো ৷ বিভিন্ন দেশেই যাত্রার সময় তা প্রয়োজন হয় ৷

বিমানবন্দরের নিয়ম– আগে বিমান যাত্রার সময় যাত্রীদের ১-৩ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দর পৌঁছলেই হত ৷ কিন্তু এখন সেই সময় বেড়ে অন্তত ৪ ঘণ্টা হতে পারে ৷ কারণ সিকিউরিটি চেকিংয়ের পাশাপাশি হেলথ স্ক্যান ও আরও নানাবিধা কাজ বাড়ছে ৷ তাই যাত্রীদের পরামর্শ, যতোটা সম্ভব আগে বিমানবন্দর পৌঁছনো ৷ SimpliFlying-এর রিপোর্ট অনুযায়ী Biomed CT Scan-র ব্যবস্থা হতে পারে বিমানবন্দরগুলিতে ৷ চেক ইন ব্যাগগুলিকে স্ক্যান করার আগে UV-sterilised বা fog-sterelised করে স্যানিটাইজড করা হতে পারে ৷ থাকবে থার্মাল স্ক্যানারও ৷

বোর্ডিং- যাত্রীদের বিমানে ওঠার আগে বোর্ডিং গেটে এবার থেকে আধ ঘণ্টার বদলে অন্তত এক ঘণ্টা আগে পৌঁছতে হতে পারে ৷ বিমানবন্দরে থাকার সম্ভাবনা টাচলেস ভেন্ডিং মেশিন ৷ বোর্ডিংয়ের নোটিফিকেশন যাত্রীদের মোবাইলেই পাঠানো হবে ৷ জেট ব্রিজগুলিতেও যাত্রীদের লাইনে দূরত্ব বজায় রাখা হতে পারে ৷ কোনও যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়লে তাঁকে বিমানে উঠতে না দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ৷

ইন-ফ্লাইট (বিমানের ভিতর)– ইন-ফ্লাইট অভিজ্ঞতাও এবার অনেকাংশেই বদলাতে চলেছে যাত্রীদের ৷ কেবিন ক্রু বা বিমান সেবিকাদের প্রোটেক্টিভ গিয়ার পরতে হতে পারে ৷ যাত্রীদের মাস্ক, গ্লভস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস পরাটা বাধ্যতামূলক হতে চলেছে ৷ বিমানের ভিতর জ্যানিটর রাখা হতে পারে ৷

খাবার পরিবেশন : খাবার পরিবেশনে ব্যবস্থাতেও নানা বদল আসতে চলেছে ৷ যে সব বিমানে বা প্রিমিয়াম ক্লাসগুলিতে মাল্টি কোর্স খাবারের ব্যবস্থা থাকে সেখানে এবার থেকে প্রি-প্যাকেজড, সিলড খাবার দেওয়া হতে পারে ৷ সিটের পকেটগুলিতে ইনফ্লাইট ম্যাগাজিন না থাকার সম্ভাবনাই বেশি ৷ এবং যাত্রীদের এন্টারটেনমেন্টের জন্য নিজস্ব ডিভাইস ব্যবহার করার উপরেই এখন জোর দেওয়া হচ্ছে ৷ বিমানে যাত্রার সময় খাবার বা অন্যান্য জিনিস কেনার জন্য ১০০ শতাংশ ডিজিটাল পেমেন্টের বিষয়টাও উল্লেখ করা হচ্ছে ৷ প্রত্যেক ৩০ মিনিট অন্তর অন্তর হ্যান্ড-স্যানিটাইজার দেওয়া হতে পারে যাত্রীদের।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!