বিমান চলাচল কম, প্রভাব পড়বে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে

করোনা ভাইরাসের কারণে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সঠিকতা কমে যেতে পারে। প্রতিদিন উড্ডয়মান বিমানের সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার কারণে আবহাওয়ার এই আশংকা করা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য যে বিশাল পরিমাণ তথ্যে প্রয়োজন হয় তার একটি বড় অংশ আসে বিমান চলাচলের সময় পাইলটের দেওয়া আবহাওয়ার প্রতিবেদন থেকে। অর্থাৎ পাইলট যে কিছুক্ষণ পর পর স্টেশনকে জানায় যে কত তাপমাত্রা, কত বাতাসের মধ্যে সে উড়ছে এই তথ্যগুলো আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টের মতে বিমানের দেওয়া তথ্যগুলো কৃত্রিম উপগ্রহের দেওয়া তথ্যের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।বিমানের দেওয়া তথ্য এতো দরকারি কারণ, ভূমির স্টেশন, জাহাজ ও ওশান বুয়োজ থেকে কেবল ভূমিতে আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা জানা যায়। স্যাটেলাইট জানায় কেবল বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে। এর মধ্যবর্তী স্থানের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য আবহাওয়াবিধরা বিমানের প্রতিবেদনের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।করোনা ভাইরাস মহামারির ছড়িয়ে পড়াকে রোধ করতে ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে গত এক মাসে ফ্লাইটের সংখ্যা কমেছে প্রায় এক লাখ। সামনের দিনগুলোতে আরও কমে যেতে পারে।

আর এই কারণে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ব্যবহৃত ডাটার সরবরাহ কমেছে ৬৫ শতাংশ।পূর্বাভাস মডেলগুলোতে সাধারণত যত বেশ ডাটা ব্যবহার করা যায় তত বেশি সঠিক পূর্বাভাস পাওয়া যায়। যে হোক আবহাওয়া হোক অন্য কোনও পূর্বাভাস।এদিকে আবহাওয়ার মডেলগুলো সাধারণত ক্যায়োটিক হওয়ার কারণে একটি ছোট্ট পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক বড় ভুল সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের উপায় হচ্ছে অনেকগুলো আবহাওয়া বেলুন আকাশে পাঠানো যেগুলো বিমানের হয়ে বায়ুমণ্ডলের মধ্যবর্তী স্থানের আবহাওয়ার তথ্য জানাবে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!