বাংলাদেশীদের জন্য বিদেশ ভ্রমণ বিলম্বিত হতে পারে

বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈশ্বিক এয়ারলাইনস খাত। নিয়মিত ফ্লাইট কার্যক্রম না থাকায় দেউলিয়া হওয়ার পথে দেশী সব এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) সুপারিশের ভিত্তিতে উড়োজাহাজের ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। যদিও দেশে করোনা সংক্রমণের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জুলাইয়ের আগে বাংলাদেশীদের জন্য বহির্বিশ্বের দরজা খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে দেশী এয়ারলাইনসগুলোর আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট চালু হচ্ছে না সহসাই।

বিষয়টি নিয়ে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় গন্তব্যেই ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আইকাওর নির্দেশনা অনুযায়ী এয়ারলাইনসগুলোকে কিছু বিধি নিষেধও দেয়া হয়েছে। তবে সবকিছু্ই নির্ভর করছে দেশের করোনা পরিস্থিতির ওপর। কারণ বর্তমানে চীন ও যুক্তরাজ্য ছাড়া কোনো দেশেই বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি নেই। আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যারা ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেবে, সে সব দেশে আমরা ফ্লাইট চালাব। তবে বর্তমানে দেশের করোনা সংক্রমণের যে পরিস্থিতি, তাতে সহসাই আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা নেই। আগামী জুনের পর ফ্লাইট চালু হবে কিনা, সেটাও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ইউরোপ থেকে আগত ফ্লাইটগুলোর প্রবেশের অনুমতি নেই।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশী এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ বাংলাদেশে ফ্লাইট চালু করতে চাচ্ছে। তবে তারাও কেবল অন্য দেশ থেকে যাত্রী আনবে অথবা বাংলাদেশ থেকে অনুমতি সাপেক্ষে ট্রানজিট যাত্রী নেবে।

অন্যদিকে ফ্লাইট চালু হলে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর যাত্রী আসবে বাংলাদেশে। তাদের সঠিক নিয়মে কোয়ারেন্টিন করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও রাখতে হবে। উড়োজাহাজ ও বিমানবন্দরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়গুলোও বাস্তবায়ন করতে হবে। আর এসব নিশ্চিত করেই ফ্লাইট চালু করা হবে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু করতে এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরগুলোকে বেশকিছু শর্ত দিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে আইকাওর নির্দেশনা অনুযায়ী একটি গাইডলাইনও তৈরি করেছে বেবিচক।

এতে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজে প্রত্যেক যাত্রীর মধ্যে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে এ নিয়ম মেনে চলতেই হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক যাত্রীর মধ্যে অন্তত একটি আসন ফাঁকা রাখতে হবে। অর্থাৎ উড়োজাহাজের ভেতরে দুজন যাত্রী পাশাপাশি বসতে পারবেন না।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক এয়ারলাইন্সকে এ নিয়ম মেনেই ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটের ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রমের সুযোগ নেই।

গাইডলাইনে আরো বলা হয়েছে, প্রতিটি ফ্লাইটের সামনে অথবা পেছনে একটি সারির আসন খালি রাখতে হবে। ফ্লাইটের মধ্যে কোনো যাত্রী যদি অসুস্থ বোধ করেন, তাহলে তাকে ওই সারিতে আলাদাভাবে বসাতে হবে। সে হিসেবে একটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ এবং এটিআর-৭২ বা ড্যাশ-৮-এর মতো ছোট উড়োজাহাজে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করা যাবে। এছাড়া উড়োজাহাজ উড্ডয়নের আগে ও অবতরণের পর প্রত্যেকবার জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। জীবাণুমুক্ত করার পর বেবিচকের প্রতিনিধিরা প্রক্রিয়াটি দেখে সনদ দেয়ার পরই উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের অনুমতি পাবে। পাশাপাশি প্রত্যেক ফ্লাইটের যাত্রীদের মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বেবিচকের নিয়ম মেনেই বর্তমানে গুয়াংজুতে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যেও ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সব নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর।

তিনি বলেন, আগামী জুন পর্যন্ত সব দেশেই ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। এর আগে ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা নেই। জুনের পর হয়তো মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোয় ফ্লাইট চালু হবে। তবে দেশের করোনার যে গতিপ্রকৃতি দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে কোনো দেশ আগামী সেপ্টেম্বরের আগে বাংলাদেশের ফ্লাইট অবতরণের অনুমতি দেবে না।

প্রসঙ্গত, ১৬ মে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেবিচক। তবে এ সিদ্ধান্ত শুধু শিডিউলড প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে। বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে পরিচালিত চার্টার্ড ফ্লাইট এ নিয়মের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া কার্গো, ত্রাণ সাহায্য, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি অবতরণ ও স্পেশাল ফ্লাইট পরিচালনার কার্যক্রম চালু থাকবে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, এ নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বাহরাইন, ভুটান, হংকং, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ইউএই, যুক্তরাজ্যের (মোট ১৬টি দেশ) সঙ্গে বিদ্যমান ফ্লাইট চলাচল রুটের ক্ষেত্রে কার্যকর।

বণিক বার্তা

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!