ফাঁকা বিমানবন্দরে তিন দিন ধরে আটকা তরুণী

কয়েকটি বিমানে উঠতে চেয়েও পারেন নি বছর পঁচিশের এই তরুণী। এরপর বন্ধ হয়ে যায় যাত্রীবাহী বিমান চলাচল। বন্ধ হয়ে গেছে বন্দরের সব দরজা। বাধ্য হয়ে তরুণীর ঠাঁই হয় বিমানবন্দরের আগমন লাউঞ্জের বাইরে। তিন দিন ধরে সেখানেই একাকী অনাহারে কাটে তার দিন-রাত। কেউ এগিয়ে আসে নি তার সাহায্যে। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে পুরো দেশে লকডাউনের মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে ভারতের কলকাতায় বিমানবন্দরে আটকা এই তরুণীর ব্যাপারে এমনই খবর দিলো আনন্দবাজার পত্রিকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবন্দরের অ্যারাইভালের বাইরে একটি বেঞ্চিতে ওই তরুণী গুটিসুটি মেরে বসে ঘুমাচ্ছিলেন। তরুণীর পরনে আধভেজা, ময়লা ডেনিম। এই গরমেও গায়ে সাদা ফুলহাতা সোয়েটার। পায়ে মোজা, স্নিকার্স। কোলে ছোট একটা সবুজ ব্যাগ। পাশে একটি বড় ব্যাগ।
কলকাতা বিমানবন্দর থেকে যাত্রীবাহী বিমানের ওঠানামা বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। চারদিক নিস্তব্ধ। হাতে গোনা কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী ও অফিসার ঘুরে বেড়াচ্ছেন বন্দরের ভেতরে। তাদের ভাষ্য, গত তিন দিন ধরে ওই চত্বরেই ঘুরে বেড়ান এই তরুণী। পুলিশকে তারা বিষয়টি বলেছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয় নি।

তিন দিনের একাকী ধকলে স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তরুণী। তাই কারও সঙ্গে কথা বলতে চান না তিনি। কিছু জিজ্ঞেস করলে, বিরক্ত হয়ে জবাব দেন তাকে যেন একা থাকতে দেওয়া হয়।
ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দি ও বাংলাও বলতে পারেন এই তরুণী। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর সংবাদকর্মীরা তরুণীর কাছ থেকে জানতে পারেন, তার নাম অলকা কুমারী। বাড়ি দিল্লির কাছে গ্রেটার নয়ডায়। তার অভিযোগ, ‘এই একই প্রশ্নের উত্তর গত তিন দিনে অন্তত একশো বার দিয়েছি। আমি ক্লান্ত, বিরক্ত। সংবাদ মাধ্যম, পুলিশ, নিরাপত্তা সংস্থা— সবাইকে ঘৃণা করি।’
অলকা একটি প্রজেক্টের কাজে গত রোববার কলকাতা যান। মঙ্গলবার তিনি কলকাতা থেকে দিল্লি ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো ফ্লাইটে জায়গা পান নি। এরপর থেকে তিনি বিমানবন্দরেই বসে আছেন।
অলকার সঙ্গে কোনো টাকা পয়সা নেই। সঙ্গে থাকা পানিরা বোতলও খালি। পুলিশের অনুমান, গত দুই দিন ধরে তিনি অভুক্তও থাকতে পারেন।
অলকার ফোনটাও ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে নগদ টাকা নেই। হাজার পাঁচেক টাকা দরকার। কেউ যদি তার অ্যাকাউন্ট নম্বর দেন, তাহলে আমি ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকাটা ফেরত পাঠাব।’
বুধবার পণ্যবাহী দুটি বিমান কলকাতা থেকে ওঠানামা করেছে। তার একটি গেছে দিল্লি।

অলকা জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে সেই বিমানে তিনি দিল্লি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, অলকা যেহেতু গেটের বাইরে রয়েছেন, তাই তার দেখ ভালের দায়িত্ব পুলিশের।

কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বুধবার বিষয়টি তারা স্থানীয় থানাকে জানানো সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা হয় নি। শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমানবন্দরের ডাক্তারদের দিয়ে অলকার পরীক্ষা করানো হয়। পরে তাকে রাজারহাটের কোয়ারেন্টিন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

নিউজ সোর্স – দৈনিক আমাদের সময়

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!