দুই পাইলটকে ফ্লাইট পরিচালনা থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রানওয়েতে সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসরকারি এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে দুটি ফ্লাইটের কয়েক শ’ যাত্রী বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। পাইলট না-কি এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিকের ভুলের কারণে উড়োজাহাজ দুটিতে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল, সেই রহস্য খুঁজতে ঘটনার পরই গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। তবে ঘটনার ১২ দিন পর গতকাল মঙ্গলবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ওই দিনের ফ্লাইটের পাইলট ক্যাপ্টেন মুনতাসির ও নতুন পাইলট হিসেবে যোগদান করা পাইলট তানজিনকে ফ্লাইট পরিচালনা থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বেলা সোয়া ২টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট (বোয়িং-৭৩৭) কক্সবাজারের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রানওয়েতে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওই ফ্লাইটের পাইলট ছিলেন মুনতাসির ও তানজিন। একই সময়ে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ (এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিক) টাওয়ার থেকে ক্লিয়ারেন্স পেয়ে অবতরণ করতে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে উড়োজাহাজটি প্রায় ৮০০ ফুটের মতো নেমে আসে। এর পরই ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের পাইলট দেখতে পান রানওয়েতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাথে সাথে পাইলট ফ্লাইট অবতরণ না করে আবারো উড়িয়ে নিয়ে চলে যান। যার কারণে অল্পের জন্য সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পায় উড়োজাহাজ দুটি।


সূত্র জানায়, মুহূর্তে ওয়াকিটকির মাধমে এ সংবাদটি ছড়িয়ে পড়লে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন অথরিটির শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি জানতে উদগ্রীব হয়ে পড়েন। এর পরই সবার মনে প্রশ্ন জাগে কী হতো যদি দুই প্লেনের সংঘর্ষ হতো? এ সময় কেউ কেউ ধারণা করে বলছিলেন, পাইলটের কোনো দোষ নেই। আবার কেউ বলছিলেন, দোষ হলো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে যারা বসে উড়োজাহাজ মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন তাদের? এ ঘটনার পর সিভিল এভিয়েশন অথরিটি থেকে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। তবে ওই কমিটির পক্ষ থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি।
গতকাল বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নয়া দিগন্তকে বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি দুুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে দুটি এয়ারক্রাফটের মধ্যে সংঘর্ষ হতে যাচ্ছিল তখন বিমানের পাইলটকে নাকি আকাশে হোল্ড করতে বলা হয়েছিল ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে। এখন এটির সত্য কতটুকু বা টাওয়ারের ম্যাসেজ পাইলট কি আসলে বুঝতে পারেননি তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ বলতে পারছেন না। সূত্রটি জানিয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গতকাল বিমান বাংলাদেশ এযারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বিমানের দুই পাইলট ক্যাপ্টেন মুনতাসির ও তানজিনকে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। যার ফলে গতকাল দুপুরে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটের ফ্লাইট পরিচালনার শিডিউল থাকলেও ক্যাপ্টেন মুনতাসিরকে পরিচালনা করতে দেয়া হয়নি।


অপর দিকে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে কলকাতাগামী ফ্লাইটের শিডিউল থাকলেও তাকেও একইভাবে ওই ফ্লাইট পরিচালনা থেকে বিরত রাখা হয়। তাদের বলা হয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দু’জনকে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা থেকে বিরত রাখা হলো।


এক প্রশ্নের উত্তরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন সদস্য গত রাতে নয়া দিগন্তকে বলেন, ওই দিনের ঘটনায় বিমানের যে দু’জন পাইলট ছিলেন তাদের পরিবর্তে অন্য পাইলটদের ফ্লাইটে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে কলকাতাগামী ফ্লাইটের পাইলট তানজিন ওই দিনই প্রথম ট্রেনি পাইলট থেকে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে পাইলট হিসেবে প্রথম ফ্লাইট নিয়ে উড়াল দিয়েছিলেন।


গতকাল মঙ্গলবার রাতে দুই পাইলটকে ফ্লাইট পরিচালনা থেকে বিরত রাখার বিষয়ে জানতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোকাব্বির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো: মফিদুর রহমান সাংবাদিকদের এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নিউজ সোর্স – নয়া দিগন্ত

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!