দিল্লি বিমানবন্দরে ৫৫ দিন কাটিয়ে দিলেন জার্মান পর্যটক

জার্মান পর্যটক এডগার্ড জিবার্ট ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় কাটিয়ে দিলেন ৫৫ দিন। গত ১৮ মার্চ থেকে এখানে ছিলেন তিনি। অবশেষে বিশেষ ফ্লাইটে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে যেতে পেরেছেন এই তরুণ।

গত ১২ মে সকালে কেএলএম এয়ারলাইনসের কেএল৮৭২ ফ্লাইটে দিল্লি ছাড়েন এডগার্ড জিবার্ট। এদিন ভোরে উড়োজাহাজে ওঠার আগে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কিনা তা দেখতে তার পাশাপাশি বাকি ২৯১ জন যাত্রীর সবাইকে স্ক্যান করা হয়। তবে প্রত্যেকেই সুস্থ ছিলেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে জিবার্ট দাবি করেন– তার জ্বর, কাশি কিংবা শ্বাসতন্ত্রে কোনও ব্যাধি নেই।

সেলফ-রিপোর্টিং ফরমে নিজের ঘর হিসেবে এডগার্ড জিবার্ট উল্লেখ করেন বিমানবন্দরটির টার্মিনাল থ্রি। ভারতে নিজের থাকার জায়গা হিসেবে তিনি লেখেন ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য এসব তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক করেছে ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

গত ১৮ মার্চ ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় থেকে নয়াদিল্লিতে উড়ে আসেন এডগার্ড জিবার্ট। তিনি ছিলেন ট্রানজিট যাত্রী। দিল্লি থেকে ইস্তানবুল যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ওইদিন তুরস্কে সব ফ্লাইট বাতিল করে ভারত। এর চারদিন পর সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নিষিদ্ধ করে দেশটি।

নিরুপায় জিবার্ট ভারত থেকে অন্য দেশে যেতে পারছিলেন না, এমনকি বিমানবন্দরের ট্রানজিট এরিয়া থেকেও বের হওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ তার কাছে ভারতীয় ভিসা নেই। এ কারণে অসহায়ভাবে কেটেছে প্রায় দুই মাস।

ইউরোপ ভ্রমণে জিবার্টের কোনও বাধা ছিল না। তাই তাকে যেতে দিয়েছে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কেএলএম এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে আমস্টারডাম যেতে ৪৩ হাজার রুপি দিয়ে টিকিট কিনেছেন তিনি।

সম্প্রতি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জিবার্টকে ভারত ছাড়তে ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ ধরিয়ে দিয়েছিল। তিনি আশ্বস্ত করেন, কোনও ফ্লাইটের ব্যবস্থা হলেই চলে যাবেন। গত সপ্তাহে তাকে তুরস্কের আনকারাগামী একটি ফ্লাইটে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তুর্কি নাগরিক কিংবা তুরস্কে বসবাসের স্থায়ী কার্ডধারী ছাড়া কাউকে ফ্লাইটটিতে নেওয়া হয়নি।

জিবার্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে দেশে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছিল নয়াদিল্লির জার্মান দূতাবাস। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। অবশেষে আমস্টারডাম গেলেন এই তরুণ।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Source Link

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!