কুয়েতে করোনায় আরও সহজ হচ্ছে আকামা নবায়ন

কুয়েতে প্রবাসীদের রেসিডেন্স পারমিট বা আকামা নবায়নে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রেসিডেন্স শাখা নতুন কার্যকর পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে। যেসকল করোনা পরিস্থিতিতে যে সকল প্রবাসীর আকামা নবায়ন প্রয়ােজন তারা অনলাইনে তা সম্পন্ন করতে পারবেন এবং নিরাপদ পদ্ধতিতে আকামার অর্থ লেনদেন করতে সক্ষম হবেন।

আরব টাইমস প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত করোনা পরিস্থিতির কারণে এই সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়ে আকামা নবায়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে নানাভাবে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, মন্ত্রণালয়ে ঘোরাঘুরি, আকামা নবায়নের ঝক্কি এবং জরিমানার অর্থ পরিশোধের ধকল এসব কমিয়ে এনে সেবাপ্রার্থীদের তাদের কাঙ্খিত সেবা দিতে এই অনলাইন পদ্ধতির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখন যে কোন প্রবাসী বাসা বা অফিস থেকে অনলাইন সেবা ব্যবহার করে আকামা নবায়ন করতে পারবে অনেক সহজে, দ্রুত গতিতে শেষ করতে পারবে লেনদেন।

আগামী সপ্তাহে দুটি নতুন পরিষেবা চালু করবে দেশটির সরকার। এর মধ্যে একটি সেবা চালু হবে যাদের মেয়াদোর্ত্তীণ অস্থায়ী আকামা স্থায়ী করার সুযোগ রয়েছে এবং আরেকটি সেবা দেয়া হবে সরকারি কর্মীদের যেখানে কূটনৈতিক কর্মকর্তা, দূতাবাস কর্মকর্তা, কনস্যুলেট কর্মকর্তা এবং মিশনে নিয়োজিত কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত।

এক্ষেত্রে প্রথম সেবা গ্রহীতারা অনুচ্ছেদ ১৪ থেকে ২০ এ স্থানান্তরিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে নিজেদের আকামা নবায়ন করে স্থায়ী করতে পারবেন। আর সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আকামা নবায়ন করবেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতের আল-দাজীজ এলাকায় যেসকল প্রবাসী কর্মী রয়েছে তাদেরকে এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে রেসিডেন্স এ্যাফেয়ার্স বিভাগের কর্তৃপক্ষ। তারা কোম্পানি নিয়োগকারীদের কাছ থেকে কর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করে অনলাইনে তাদের নামে একটি “ব্যবহারকারী নাম” এবং “পাসওয়ার্ড” তৈরি করছে। অনলাইন রেফারেন্সের ভিত্তিতে অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে একটি বড় হলে তাদের এই আকামা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এই ভিজিটর্স হলে ঢোকার আগে তাদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং ফেস-মাস্ক এবং গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরে তারা এই হলে প্রবেশ করে অল্প কয়েক মিনিটের মধ্যে লেনদেন শেষ করে কোম্পানির অ্যাকাউন্ট চালু করবে। এরপর কোম্পানির নিয়োগকর্তা তার কার্যালয় থেকে কর্মচারীদের লেনদেনের বাকি কাজটুকু সম্পূর্ণ করবে।

রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্স-এর ডিরেক্টর জেনারেল হামাদ রশিদ আল তাওয়ালা আরব টাইমসকে জানিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগকারিদের প্রযুক্তি জ্ঞান বা দক্ষতা কম থাকায় আমাদের সহায়তা প্রদান করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে কেউ যদি ভুল করে সেক্ষেত্রে তাকে আমরা সেবা দিতে আগেভাগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়ে থাকি।

প্রতিদিন প্রায় ৪০০ প্রবাসী সেবাগ্রহিতা তাদের কাছে আসছেন বলে জানান হামাদ রশিদ। যারা আসছেন তারা আমাদের সহায়তা নিয়ে তার অফিসে সেটির প্রয়োগ ঘটাচ্ছেন।

আকামা নিয়ে আল তাওয়ালা আরো বলেন, এর আগেও এই ধরনের আকামা নবায়নের প্রক্রিয়ায় অনুচ্ছেদ ১৮ এর আওতায় আকামা নবায়ন করেছেন ৭০ হাজারেরও বেশি সেবাগ্রহিতা আর অনুচ্ছেদ ২২ ( স্ত্রী-সন্তানদের আকামা সম্পর্কিত) এর আওতায় সেবা নিয়েছেন ৪৩ হাজার প্রবাসী। তবে প্রতিবার আমরা আকামা নবায়নে নতুন ধরনের পরিষেবা চালু করি।

আকাশ যাত্রা

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!