করোনা আতঙ্কে হজ যাত্রা নিয়ে সংশয়

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনার কারণে চলতি বছর হজ হবে কি না—এই নিয়ে সংশয়ে আছেন হজ যাত্রী ও হজ এজেন্সির কর্মকর্তারা। তবে, আপাতত হজ বাতিলের নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। হজ হওয়া না হওয়ার সম্ভাব্য সবদিক বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।

এবারের হজ নিয়ে যারা শঙ্কায় আছেন, তাদের একজন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলার নাঙ্গলমোড়া গ্রামে।

বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এই বছর হজ পালন করতে যাওয়ার কথা সেলিম উদ্দিনের। সব কিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু করোনার কারণে হঠাৎ বেঁকে বসলেন তিনি। হজ আদৌ হবে কি না, হলেও কী অবস্থা হবে, টাকা-পয়সা দিয়ে যদি শেষ পর্যন্ত যেতে না পারেন, এই আশঙ্কায় চূড়ান্ত নিবন্ধন করবেন না বলে কদিন আগে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

একই অবস্থা কুয়েত প্রবাসী সাহাবুল আলমের। দেশে ফিরে পুরো পরিবার নিয়ে হজে যাওয়ার কথা ছিল তার। করোনার কারণে দেশে আসতে পারছেন না, পরিবারের সদস্যদেরও নিয়ে যেতে পারছেন না। এ কারণে চূড়ান্ত নিবন্ধন করেননি তারা।

এদিকে, হজ এজেন্সি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে হজের কোটা পূরণ করতে সরকার দ্বিতীয় দফা নিবন্ধনের সময় বাড়িয়েছে। এরপরও ভয়ে হজ গমনেচ্ছুকরা নিবন্ধন করছেন না। এছাড়া, ব্যাংকগুলোরও বিভিন্ন শাখা বন্ধ থাকায় এজেন্সি মালিকরা নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে নিবন্ধনের টাকা ট্রান্সফারও করতে পারছেন না। মানি একচেইঞ্জ বন্ধ থাকায় টাকা পাঠাতে পারছেন না প্রবাসীরা। ই-পাসপোর্ট জটিলতা ও যানবাহন বন্ধ থাকায় গ্রামে-গঞ্জে থেকে সময়মতো পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারছেন না বলে অনেকেই। তাই হজের নিবন্ধনও করছেন না।

জানতে চাইলে আল মাকাম ট্রাভেলসের মোনাজ্জেম মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘গেলো বছরের এই সময়ে হজযাত্রীর ভিড় ছিল। এবার হজ যাত্রী সংগ্রহেই হিমশিম খাচ্ছি। এবার করোনায় হজের অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই নিবন্ধন করছেন না।’

তবে, হজ বাতিলের আশঙ্কা কম বলে মনে করেন বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হাজি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ডা. আব্দুল্লাহ আল নাসের। তিনি বলেন, ‘মনে হয় না হজ বাতিল হবে। করোনার কারণে সীমিত হজযাত্রী নিয়ে হলেও হজ হবে।’

এদিকে, হজ অফিস জানিয়েছে, এবার সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে হজের কোটা ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন। এবার দুই দফা সময় বাড়ানোর পর এই পর্যন্ত হজ যাত্রীর নিবন্ধন হয়েছে ৪০ হাজার।
নিবন্ধন সন্তোষজনক বলে মনে করছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী। তিনি বলেন, ‘করোনা বৈশ্বিক সমস্যা। এতকিছুর পরও যেভাবে নিবন্ধন হচ্ছে, তা আশানুরূপ। রোববার (৫ এপ্রিল) ৩ হাজার, সোমবার ২ হাজার ৫০০ নিবন্ধন হয়েছে। সব মিলিয়ে এই পর্যন্ত ৪০ হাজার হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন। আরও ৪০ হাজার পাসপোর্ট রেডি।’

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘আমরা নিবন্ধন করে রাখছি। সৌদি অংশে হজের কার্যক্রম চালু হলেই যেন আমাদের কাজ করতে পারি, সেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’
হজ প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে ধর্মসচিব মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের হজ বাতিল হতে পারে, এমন কোনো নির্দেশনা সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এখনো দেওয়া হয়নি। হজ হবে—এমনটা ধরে নিয়ে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।’

ধর্ম সচিব আরও বলেন, ‘হজের নিবন্ধন চলছে। সৌদি অংশের বাড়ি ভাড়ার জন্য বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে। তবে, হজ বাতিল হলে হজ যাত্রীদের টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে। তাদের যেন ক্ষতি না হয়, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর যদি হজ হয়, তাহলে যেন সবাইকে নিতে পারি, সেজন্যও আমাদেরও সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩০ জুলাই (৯ জিলহজ) হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জুন থেকেই হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা।
সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ হজ যাত্রী যেতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ১৯৮জন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার জন।

নিউজ সোর্স – রাইজিং বিডি

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!