করোনায় বিদেশে বন্দি তারকারা, পারবেন কী দেশে ফিরতে?

কতো মায়ের নাড়ি ছেঁড়া সন্তান প্রবাসে পড়ে আছেন বছরের পর বছর। কতো বোনের এক মাত্র ভাই, কতো নারীর স্বামী, কতো ছোট ছোট শিশুর বাবা আটকা পড়ে আছেন প্রবাসে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরেছেন কেউ কেউ। আরও কত জনের ফেরা হয় নি।

করোনার আক্রমণে বিদেশের মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন কতো প্রিয়জন! যারা এখনো দেশে ফেরার বাসনায় প্রবাসেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন, দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

পৃথিবী কবে শান্ত হবে, কবে ঘরে ফেরা হবে তাদের কেউ জানে না। তাদের অনেকেই দেশে ফিরতে চান। কীভাবে তাদের দেশে আনা যায় তা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

এদিকে কয়েকদিনের জন্য বিভিন্ন কাজে বিদেশ পাড়ি দিয়ে, কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও আটকা পড়ে আছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে আছেন অনেক তারকাও।

ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ছেলে অপু রায়হানকে দেখতে যান অভিনেত্রী ও নির্মাতা সুচন্দা। ছেলে দেশে ফিরলেও সুচন্দা ভাইদের সঙ্গে কিছুদিন কাটিয়ে এপ্রিলের শুরুর দিকে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিউইয়র্কে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে সেখানেই আটকে যান সুচন্দা।

নিউইয়র্কে আটকা পড়েছেন আরেক অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত। মেয়ে আনমোলসহ ছোট বোনের কাছে যুক্তরাজ্যে বেড়াতে গিয়ে আর ফিরতে পারেন নি সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী। মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা জাফর ব্যবসায়িক কাজে ১৮ মার্চ দুবাই গিয়ে আর ফিরতে পারেন নি। ব্যক্তিগত কাজে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আটকে আছেন অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদও।

কাজী হায়াতের ছেলে কাজী মারুফ ও তার স্ত্রী বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছিলো। এখন কেমন আছেন তারা? কবে ফিরবেন দেশে সবই অজানা।

এছাড়া স্থায়ীভাবেও অনেকদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন ছোটপর্দা ও বড় পর্দার অনেক তারকা। যেমন অস্ট্রেলিয়ায় আছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। যুক্তরাষ্ট্রে পরিবার নিয়ে থাকেন টনি ডায়েস।

এছাড়াও আছেন যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মোনালিসা, রুমানা, জামাল উদ্দিন হোসেন, মিলা হোসেন, শামীম শাহেদ, শিরিন বকুল, শ্রাবন্তী, কাজী উৎপল, তমালিকা কর্মকার, ডলি জহুর, শামসুল আলম বকুল, মহসিন রেজা, হিল্লোল, আফরোজা বানু, নওশীন নাহরিন মৌ, খাইরুল ইসলাম পাখি, রওশন আরা, লুৎফুন নাহার লতাসহ আরও অনেকেই।

তারা বিদেশে বসেই দেশের খোঁজ রাখছেন, এখানে রেখে যাওয়া প্রিয়জনদের সাবধান করছেন।

টনি ডায়েস বলেন, ‘জীবনটা খুব ছোট। কতো তাড়াতাড়ি চলে যায় মানুষ। এ যাত্রায় বেঁচে গেলে নতুন করে বাঁচবো আমরা। আমরা সবাই বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন শহরে আছি। কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছি না। কারণ আমরা অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করছি। সবাই বাঁচতে চাই, কাউকে হারাতে চাই না। এই সুন্দর পৃথিবীতে বাঁচার চেষ্টা করি। শপথ করি, সুন্দর জীবনের।’

ফাহমিদা নবী বলেন, ‘মন তো এলোমেলো হয়ে আছে। ঢাকায় ফিরতে পারছি না, আটকে গেছি লন্ডনে। কবে ফিরতে পারবো নিজের দেশে জানি না। মনে হচ্ছে কবে যেতে পারবো ঢাকায়? কবে এই মহাবিপদ থেকে পুরো বিশ্ব মুক্তি পাবে? এই মুহুর্তে কি চাই,আর কি চাই না ঠিক জানি না। গৃহবন্দী থাকছি, স্বজ্ঞানে। তাই নিজেকে মানসিকভাবে ব্যস্ত রাখতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানানভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখছি। কখনো রান্না করছি,কখনো টিভি দেখছি।’

কাজী হায়াৎ বলেন, ‘আমার ছেলে ও ছেলের বউ নিউইয়র্কে আছে। কবে সে ফিরবে সেই অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি। আমার মতো আরও অনেক বাবার সন্তানরাই হয়তো এভাবে বিদেশে আছে। সবাই অপেক্ষা করছেন নিজেদের ছেলেমেয়েদের ফেরার পথ চেয়ে। কিন্তু এখন তো লকডাউন চলছে। বিশ্বের অবস্থাও ভয়ঙ্কর। পরিস্থিতি শান্ত হলেই ফিরতে পারবে তারা। যারা দেশে ফিরে আসতে চায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করি সরকারকে।’

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকা বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরাবে সরকার। কিন্তু বিভিন্ন দেশে লকডাউন, ফ্লাইট বন্ধসহ বিভিন্ন কারণে তাদের ফেরাতে সময় লাগবে।

নিউজ সোর্স – জাগো নিউজ

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!