করোনায় কানাডায় আটকে বিমানের তিনটি ড্যাশ-৮

যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ২০১৮ সালে ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ এনজি মডেলের তিনটি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কানাডার বম্বার্ডিয়ার ইনকরপোরেশনের কাছ থেকে কেনার পর চলতি বছরের মে, জুন ও জুলাইয়ে উড়োজাহাজ তিনটি দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু গত দুই মাসে একটি উড়োজাহাজও বিমানবহরে যুক্ত হয়নি। জুলাই মাসেও তৃতীয় ড্যাশটি আসার সম্ভাবনা নেই। করোনা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ করতে পারছে না বম্বার্ডিয়ার ইনকরপোরেশন।

আগামী অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পর্যায়ক্রমে দেশে আনা হবে বলে জানায় বিমান কর্তৃপক্ষ। এতে বিমানই লাভবান হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ লাগছে না। তা ছাড়া সময়মতো সরবরাহ করতে না পারায় বম্বার্ডিয়ার ইনকরপোরেশন বাড়তি অর্থ দেবে বিমানকে। এ কথা জানিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, নির্ধারিত সময়ের কয়েক মাস পর তিনটি ড্যাশ বাংলাদেশে আনা হবে। সময়মতো সরবরাহ করতে না পারায় বম্বার্ডিয়ার ইনকরপোরেশন বিমানকে বাড়তি টাকা দেবে। অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে এগুলো আসবে। এগুলো দেশে আনার জন্য বিমানের পাইলটরা কানাডায় যাবেন।


বিমানবহরে বর্তমানে উড়োজাহাজের সংখ্যা ১৮। এর মধ্য নিজস্ব উড়োজাহাজ ছিল ১২টি। এগুলো হলো চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ছয়টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ। বাকি ছয়টি লিজে আনা হয়েছে। লিজে আনা উড়োজাহাজের মধ্যে দুটি ড্যাশ উড়োজাহাজ রয়েছে। এই দুটি ড্যাশের একটি বিমান কিনে নিয়েছে। সব মিলিয়ে বিমানের নিজস্ব উড়োজাহাজ ১৩টি।


পুরোনো ড্যাশ-৮ কেনার কারণ সম্পর্কে বিমানসচিব মহিবুল হক বলেন, ‘মিসরের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজগুলো লিজে আনা হয়েছিল। ওদের কাছে একটিই উড়োজাহাজ ছিল। এই ড্যাশ-৮ খুব সস্তায় আমরা কিনেছি। এটির বয়স সাত থেকে আট বছর হবে। বাকি ড্যাশটি ২০২১ সালে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তাই চারটি ড্যাশ দিয়ে আমরা অভ্যন্তরীণ রুটেও বেশ ভালোভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে।’


তিনটি নতুন ড্যাশ-৮ আসার পর বিমানের উড়োজাহাজ সংখ্যা হবে ২১। তবে নতুন ড্যাশ কেনার জন্য ঋণসহায়তা দিচ্ছে কানাডা সরকারের প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট কানাডা’ (ইডিসি)। বাংলাদেশ ও কানাডা সরকারের মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে (জিটুজি) সরাসরি ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে বিমান তিনটি কেনা হয়েছে।


করোনার কারণে বিমানের ১৭টি আকাশপথের মধ্যে সচল রয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন। তাও আবার সপ্তাহে এক দিন একটি ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান। আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবিতে ৬ জুলাই থেকে ফ্লাইট চালুর কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ আকাশপথে ১ জুন থেকে ফ্লাইট চালু হলেও বিমান সেসব রুটে ডানা মেলছে না। তবে চার্টার্ড ও বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে ২৫০ কোটি টাকা আয় করেছে বিমান। আগামী অক্টোবরের মধ্যে কানাডার টরন্টোয় সরাসরি ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে বেশ আশাবাদী বিমান কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু বিমানের ১৮টি উড়োজাহাজ অনেকটাই অলস বসে আছে। এই উড়োজাহাজগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ে মাসে বিমানের প্রয়োজন হয় ২৬০ কোটি টাকা। তাই চলতি বছরের শেষ দিকে করোনা পরিস্থিতির যদি উন্নতি না হয়, নতুন তিনটি ড্যাশ বিমানের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এস এম নাসিমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মতো বহু নামীদামি বিমান সংস্থা করোনার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বিমানের উচিত চার্টার্ড ফ্লাইট দিয়ে আয় বাড়ানো। তাই করোনাকালে নতুন উড়োজাহাজ এলে বিমানের লোকসান বাড়বে বৈ কমবে না। এটি এড়ানোর উপায়ও থাকবে না।

Source Link

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!