ওসমানি বিমানবন্দর সম্প্রসারণসহ ৩ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

সিলেট ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ ২২৪২ কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার ৯৫০ টাকা ব্যয়ে তিনটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এরমধ্যে শুধু সিলেট ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ কাজেই দুই হাজার ১১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অনুমোদিত প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের তৃতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিগত ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট থেকে সরাসরি লন্ডনে ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করেন।

গত দুই দশকে এ বিমানবন্দরের যাত্রী হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি বেড়েছে। ওসমানী বিমানবন্দরকে আধুনিক সুপরিসর বিমান তথা বোয়িং ৭৭৭ ধরনের বিমান চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধি করণ সংক্রান্ত অপর একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বর্ধিত যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং চাহিদা মেটানোর জন্য প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন, কার্গো টার্মিনাল ভবন ইত্যাদিসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধাদি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ফিজিবিলিটি স্টাডিসহ প্রয়োজনীয় ড্রইং-ডিজাইন প্রণয়নের জন্য কোরিয়াভিত্তিক খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইয়োশিন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (কোরিয়া) ও হিরিম আর্কিটেকচার অ্যান্ড প্ল্যানার্স কোম্পানি লিমিটেড-কে যৌথভাবে নিয়োগ করা হয়।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রথম পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থাৎ ২০৩৯ সাল পর্যন্ত বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন, কার্গো টার্মিনাল ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ার, বোর্ডিং ব্রিজ, পার্কিং এপ্রোন, ট‌্যাক্সি ওয়ে, কারপার্কিং, সংযোগ সড়ক ইত্যাদিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠমো নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।

সেই মোতাবেক জিওবি ও সিএএবি’র নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য দুই হাজার ৩০৯ কোটি ৭৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রাসারণ (১ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়।

প্রকল্পের ডিপিপি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়। এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২,১১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বেইজিং ভিত্তিক নির্মাতা সংস্থা বেইজিং আরবান কন্সট্রাকশন গ্রুপ লিমিটেড (বিইউসিজি)।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্যাকেজ-৩ এর আওতায় ৫০হাজার মেট্রিকটন গম ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে সরকারি ভাণ্ডারে গমের মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্যাকেজ-৩ এর আওতায় ৫০হাজার মেট্রিকটন গম আমদানির জন্য দরপত্রের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর ভিত্তিক মেসার্স, অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড এ গম সরবরাহ করবে। প্রতি মেট্রিকটন গম ২৬৫ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ১১২ কোটি ৭২ লাখ ১ হাজার ৫৫০ টাকা।

বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের পূর্ত কাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ডেলিগেটেড ওয়ার্ক হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের ১৬ তলা ভবন নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজ সম্পাদনের জন্য দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। এরপর টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের কাছ থেকে ১৩৪ কোটি ৯১ লাখ টাকায় ক্রয় প্রস্তাব সিসিজিপি’র অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলে তাতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নিউজ সোর্স – রাজিং বিডি

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!