এয়ার কোরিও – বিশ্বের একমাত্র ১ স্টার পাওয়া বিমান

নর্থ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার কোরিও (Air Koryo) হলো বিশ্বের একমাত্র বিমান সংস্থা যারা টানা ৭ বছর ধরে Skytrax থেকে মাত্র ১ স্টার নিয়ে বিশ্বের সবচাইতে খারাপ বিমানের খেতাব জিতে আসছে। কিম জং উনের ভয়ে যদিও নর্থ কোরিয়া যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি, তাও ঘাটাঘাটি করে বের করার চেষ্টা করলাম কেনো এই বিমান সংস্থার এই দুরবস্থা! যদিও এইখানে রাজনৈতিক ব্যাপার ও জড়িত কিন্তু আমরা সেইদিকে যাবনা। এছাড়াও পড়তে পারেন এমিরেটস এয়ারলাইন্সের মজার ১০ তথ্য

১। একমাত্র ১ স্টার খেতাব অথবা দুর্নাম জয়ী বিমান

Skytrax এর রেটিং ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোন বিমান ১ স্টার পায়নি, এয়ার কোরিও বাদে। এ নিয়ে উপরেও কথা বলেছি। পুরনো কেবিন, রুক্ষ স্বভাবের কেবিন ক্রু এবং তাদের রহস্যময় ঠাণ্ডা মিট বার্গারের জন্য তারা টানা সাত বছর ধরে সবচেয়ে বাজে বিমানের খেতাব জিতে আসছে।

যদিও তারা এখন চেষ্টা করছে তাদের এই দুর্নাম ঘুচানোর জন্য। তারা এখন তাদের ফ্লাইটে বিভিন্ন ধরনের পানীয়ের ব্যবস্থা রেখেছে, এমনকি নতুন এয়ারক্রাফট কেনার প্রক্রিয়াও চলছে।

২। নিষেধাজ্ঞার কারণে এয়ার কোরিও কেবল রাশিয়ান বিমান পরিচালনা করে

উত্তর কোরিয়ার উপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা বোয়িং এবং এয়ারবাস কোম্পানির কোন বিমান কিনতে পারছেনা, যেখানে বিশ্বের প্রায় সব দেশ এই দুই কোম্পানি থেকে বিমান কিনে। এর প্রধান কারণ হলো, বোয়িং আমেরিকার এবং এয়ারবাস ইউরোপিয়ান কোম্পানি।

কেবিন ক্রু, এয়ার কোরিও
Cabin Crew of Air Koryo. Source: Flickr

তাই হাল আমলের সোভিয়েত বিমান এবং চাইনিজ বহর দিয়ে তাদের এখন চলতে হচ্ছে। তবে আসন্ন দিনগুলোতে তারা রাশিয়ান সুখোই সুপারজেট ১০০ এর মত আধুনিক বিমান কেনার পরিকল্পনা করছে এয়ার কোরিও।

৩। এয়ার কোরিও ১৯৭৫ সালে জেট-যুগে প্রবেশ করে

প্রথম Tupolev Tu-154, ৪৩ বছর আগে ১৯৭৫ সালে এয়ার কোরিওতে পৌঁছেছিল। উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের সাথে মস্কো, পূর্ব বার্লিন এবং প্রাগের সংযোগ করার জন্য এই বিমানটি সরবরাহ করা হয়েছিল। যারা জানেন না তাদের জন্য, Tupolev হলো রাশিয়ান বিমান প্রস্তুতকারী কোম্পানি।

এয়ার কোরিও
Air Koryo Tupolev Tu-154. Source: Flickr

Tu-154 বিমানটি একবার জ্বালানি নিয়ে ৫৩০০ কিলোমিটারের বেশি যেতে পারতোনা। তাই রাশিয়ার Novosibirsk এবং Irkutsk নামক শহরে জ্বালানির জন্য ট্রানজিটের ব্যাবস্থা করা হয়। এরপর ১৯৮০ দশকে উত্তর কোরিয়া আরো তিনটি তুপোলেভ টু-১৫৪ তাদের বিমান বহরে যোগ করে। এখন তারা আর পুরনো এইসব বিমান পরিচালনা করেনা। তারা নতুন এবং আধুনিক Tu-204 দিয়ে ফ্লাইট অপারেট করছে।

৪। এয়ার কোরিও বিশ্বের সর্বশেষ আইএল -২২ অপারেটর

আপনি যদি এভিয়েশন লাইনের মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি অবশ্যই এয়ার কোরিও কে পছন্দ করবেন। তারা বিশ্বের প্রাচীনতম বহরটির একটি পরিচালনা করে এবং বিশ্বের একমাত্র বিমানসংস্থা যারা এখনও বিখ্যাত আইএল -২২ যাত্রীবাহী জেট পরিচালনা করে।

Ilyushin Il-22 Aircraft. Source: Flickr

এই মডেলের বিমান ১৯৬৩ সালে প্রথম পরিচালিত হয় এবং রাশিয়ান বিমান সংস্থা এ Aeroflot এর মেরুদণ্ড ছিলো এই বিমান। এছাড়াও উত্তর কোরিয়ার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ মানে প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান হলো ইলিউশিন ইল -২২ এম।

৫। একসময় এয়ার কোরিও সুইজারল্যান্ডেও ফ্লাই করতো!

উত্তর কোরিয়া এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার আগে, সুইজারল্যান্ডে কিম জং উনের প্রিয় বিমান ইলিউশিন ইল -২২ এম প্রায়ই দেখা যেত। কিম জং-উন আসলে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নের স্কুলে পড়াশোনা করতেন, তাই জুরিখের সাথে পিয়ংইয়ং এর যোগাযোগে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

এয়ার কোরিও কেবল জুরিখেই যায়নি, তারা বুখারেস্ট, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, কুয়েত এবং সিওলের মতো আরও অনেক বড় শহর এবং রাজধানীতে গিয়েছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কারণে এই রুটগুলিও বাতিল করা হয়।

৬। কুখ্যাত এয়ার কোরিও বার্গার!

উত্তর কোরিয়ার ক্যারিয়ারকে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ এয়ারলাইনে পরিণত করার অন্যতম কারণ বার্গারটি। তারা সব ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীদের এই কুখ্যাত বার্গারটি পরিবেশন করতো, যেটা ছিলো সবসময় বাসি, গন্ধযুক্ত, শক্ত ও ঠাণ্ডা।

এয়ার কোরিও বার্গার
Air Koryo Burger. Source: Flickr

বিজনেস ক্লাসে খাবার ঠাণ্ডা হলেও হরেক রকম খাবারের ব্যবস্থা আছে যেমন স্যালমন মাছ, সসেজ, ভেজ রোল, পুডিং, ফ্রাইড রাইস ইত্যাদি।

৭। এয়ার কোরিওর একটি বিজনেস ক্লাস লাউঞ্জ আছে

এয়ার কোরিও ভি আই পি লাউঞ্জ
First class lounge at Sunan International airport in Pyongyang
Source: Flickr

এক স্টার বিমান হওয়া সত্ত্বেও এয়ার কোরিও বিজনেস ক্লাস প্যাসেঞ্জারদের জন্য পিয়ং ইয়ং এয়ারপোর্টে আধুনিক বিজনেস ক্লাস লাউঞ্জের ব্যবস্থা করে রেখেছে। এই লাউঞ্জে হরেক রকম খাবার দাবার, বিশ্রাম নেওয়ার সুবিধাসহ আধুনিক লাউঞ্জের সব সুবিধা আছে। এই লাউঞ্জের সুবিধা নিতে হলে আপনাকে এয়ার কোরিও, এয়ার চায়না কিংবা পিয়ং ইয়ং এয়ারপোর্ট নামে এমন যেকোনো বিমানের বিজনেস ক্লাস প্যাসেঞ্জার হতে হবে।

৮। ইনফ্লাইট বিনোদনের নামে নিজেদের জাহির!

আপনি তাদের ইনফ্লাইট বিনোদনে আহামরি কিছু আশা করবেন না। তাদের আইএফই স্ক্রিনে কিছু ক্লাসিক্যাল মিউজিক আর নিজেদের রাষ্ট্রের প্রচার ছাড়া আর কিছু নেই। ফ্লাইট চলাকালীন আপনার পছন্দমত প্রোগ্রামেও চেঞ্জ করতে পারবেন না। তারা যা ছাড়বে তাই দেখতে হবে।

এয়ার কোরিও ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট
Air Koryo Inflight Entertainment. Source: Flickr

মোটকথা, আপনি যদি বিমানে বিনোদন পেতে চান, নিজের মোবাইলে হেডফোন বের করে গান শুনুন।

৯। এয়ার কোরিওর দীর্ঘতম ফ্লাইট ৩ ঘণ্টার

এয়ার কোরিওর দীর্ঘতম সময়ের ফ্লাইট JS158 স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় চীনের সাংহাইয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ফ্লাইট টাইম প্রায় ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। জেএস ১৫৮ প্রতি শুক্র ও সোমবার সাংহাই থেকে আবার পিয়ংইয়াংয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আগস্ট ২০১৭ এর দিকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় এই রুট বহুদিন স্থগিত ছিলো।

১০। এএন -24 হল এয়ার কোরিওর বহরের মেরুদণ্ড।

এয়ার কোরিওর বহরে মোট ১৯ টি বিমান রয়েছে, তবে তারা যে বিমানের পিছে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছেন তা হলো প্রাচীন An-24

তাদের বহরে এখন ৩টি এএন -24 বিমান আছে যেগুলো অনেকটা আমাদের দেশের ATR ছোট বিমানগুলোর মত। এয়ার কোরিও এই বিমানগুলি তাদের অভ্যন্তরীণ রুটে পরিচালনা করে কারণ তাদের দেশের বাইরে বিমান চালানোর পরিসর খুব ছোট। উত্তর কোরিয়ার উত্তরে অবস্থিত সামজিওন, পূর্ব দিকে হামহং এবং দক্ষিণে কাসং এর মতো গন্তব্যগুলিতে বেশি ফ্লাইট অপারেট করা হয়।

Original Article By AirinfoBD.com. Please do not copy paste anywhere without permission & courtesy.

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!