এয়ারলাইনস ক্রুদের নিয়ে বাড়তি সতর্কতা

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এয়ারলাইনসের কর্মীদের জন্য ‘সেফটি অ্যালার্ট’ মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভাইরাসটি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি খুবই বেশি, তাই এ ব্যাপারে যাত্রীদের পাশাপাশি এয়ারলাইনস ক্রুদের সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এয়ারলাইনস ও তাদের ক্রুদের এই নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচক সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য একটি চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এভিয়েশন পাবলিক হেলথ (এপিএইচ) ইন্সপেক্টর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আব্দুর রব। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এই নির্দেশনার বরাত দিয়ে তিনি এয়ারলাইনসসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো চিঠিতে তা মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু, মেইনটেন্যান্স ও গ্রাউন্ড ক্রুরা কে কী করবেন তা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রব  রবিবার  জেনারেল (অব.)  আমরা এয়ারলাইনস ক্রুদের সতর্ক করেছি। যাত্রীর পাশাপাশি তাঁদের মাধ্যমেও যাতে কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে ব্যাপারে এফএএর নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছি। তাঁদের বিভিন্ন পর্যায়ে কী করতে হবে তা বলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রতিটি ফ্লাইটে করোনাভাইরাসসংক্রান্ত ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে। সেই ঘোষণায় কী বলতে হবে তাও বলে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, জনসমাগমস্থলে সতর্ক থাকা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা, বিমানবন্দরে যাত্রীদের চলাফেরা যে স্থানে বেশি সেখানে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা, ঠিকমতো হাত পরিষ্কার রাখা, মাস্ক ব্যবহার করা ইত্যাদি।

তবে গতকাল কয়েকজন বিদেশফেরত যাত্রী অভিযোগ করেছেন, বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজে করোনাভাইরাসসংক্রান্ত পদক্ষেপে ঢিলেমি আছে।

স্বাস্থ্যগত সতর্কতা মেনে চলতে কোনো গাফিলতি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ-উল-আহসান  বলেন, ‘আমরা দায়িত্বরত সকল কর্মকর্তাকে মাস্ক ব্যবহার করতে বলেছি। তাঁরা তা ব্যবহার করছেন।’ সংশ্লিষ্ট সবাই ব্যবহার করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তাকর্মী যাঁরা আছেন তাঁদের আমরা আগেই এই নির্দেশ দিয়েছি। এয়ারলাইনস অপারেটরসহ বাকি অন্য যাঁরা আছেন তাঁদেরও আমরা মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন আমরা শুধু চীন নয়, সকল ফ্লাইটেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছি। যেখান থেকেই আসুক, সবাইকে হেলথ ফরম পূরণ করতে হচ্ছে এবং থার্মাল ডিটেক্টর পার হয়ে আসতে হচ্ছে। এ ছাড়া থার্মাল ডিটেক্টরের পাশাপাশি স্বাস্থ্য কার্ড পরীক্ষা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে চারজনকে সন্দেহজনকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এর মধ্যে শনিবার আমরা ইরান থেকে আসা একজনকে ডায়াগনসিসের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’ তিনি জানান, এখন তিনটি শিফটের প্রতিটি এয়ারলাইনসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রতি শিফটে চারজন করে ডাক্তার দায়িত্ব পালন করছে।

করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) আতঙ্কে আকাশপথে ঢাকা ও চীনে যাত্রী ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় ফ্লাইট অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে বিমান সংস্থাগুলো। শুধু চীন নয়, অন্যান্য গন্তব্যেও এর প্রভাব পড়ছে।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল-আহসান বলেন, ‘শাহজালালে যাত্রী অনেকটাই কমে গেছে। বিশেষ করে বহির্গামী যাত্রী কমেছে। থাই এয়ারওয়েজ তাদের ঢাকা থেকে রাতের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। এ ছাড়া চীনে চলাচলকারী কয়েকটি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট সংখ্যা অর্ধেকে নেমেছে।’

চীনের গুয়াংজুসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনাকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিকদার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি। আমাদের ক্রুদের চার সেট করে ড্রেস দেওয়া হচ্ছে, এগুলো বাসায় নিতে দেওয়া হচ্ছে না। ভালোভাবে ওয়াশ করাসহ তাঁদের হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’

নিউজ সোর্স – কালের কণ্ঠ

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!