এসির বাতাস খেতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা মালয়েশিয়ায়

গত ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম দেখে কিছুটা কৌতূহলের সৃষ্টি হল। ‘এসির বাতাস খেতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা মালয়েশিয়ায়!’ কেউ হয়তো ভাবতে পারেন শীতের দিনে শীতল হাওয়া খেতে বিদেশ যাওয়া কেন? দেশে বসেই তো হাওয়া খাওয়া যেত!

কিছুটা আগ্রহ নিয়ে সংবাদটি পড়লাম। পড়ে যা বুঝেছি তা হল, বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ১২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে ব্যাংকের গভর্নরের গুলশানস্থ ‘গভর্নর বাংলা’র জন্য ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ৬৬ টনের এসির প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন বা পিএসআই করবেন।

উল্লেখিত এ দু’জন কর্মকর্তা হলেন উপমহাব্যবস্থাপক পদের। এসি সম্পর্কে তাদের পেশাগত কোনো অভিজ্ঞতা ছিল কিনা খবরে তা উল্লেখ নেই। বিদেশ থেকে সরকারি প্রয়োজনে মূল্যবান পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের পিএসআই সাধারণত হয়েই থাকে।

তবে ইন্সপেকশন করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এ রকম সফরে পাঠানোই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত। ইদানীং সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের যে হিড়িক পড়েছে তাতে প্রশ্ন জাগে, জনগণের ট্যাক্সের টাকার এমন শ্রাদ্ধ করার অধিকার সরকারকে কে দিয়েছে? যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচ বিদেশি কোম্পানি কিংবা তাদের এ দেশীয় এজেন্টরা বহন করে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বাসভবনের এসি ক্রয়ের চুক্তিতে সে রকম একটি ব্যবস্থা রাখা আছে যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কমন সার্ভিসেস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক নিশ্চিত করেছেন। যদি তাই হবে, তাহলে এ বিষয়টি নিয়ে এত কথা কেন? আর কেনই বা খবরের কাগজে এত লেখালেখি?

এর একটি কারণ অবশ্য থাকতে পারে, যারা পিএসআইতে গেছেন তাদের হয়তো এসি সংক্রান্ত কারিগরি কোনো জ্ঞানই ছিল না।

তারা স্রেফ অন্যান্য প্রমোদ ভ্রমণের মতো মালয়েশিয়া ঘুরে এসেছেন এবং বিদেশ ভ্রমণের জন্য সরকারি যেসব আর্থিক সুযোগ-সুবিধা আছে তা তারা ভোগ করেছেন। তাতে কাজের কাজ কিছু না হলেও কর্মকর্তরা তো ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন!

জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আগেও ছিল, হয়তো ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এসব ভ্রমণ কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? যে লক্ষ্য (কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কল্যাণ নয়) সামনে রেখে এসব ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয় সে লক্ষ্য কতটুকু হল তার একটা অ্যাকাউন্টিবিলিটি থাকা প্রয়োজন।

তা না হলে কিছুদিন পরপর সরকারি কর্মকর্তাদের যে অদ্ভুত বিদেশ ভ্রমণের খবর আমরা সংবাদপত্রে দেখতে পাই তাতে হাস্যরসেরই সৃষ্টি হয়। জনগণ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রাষ্ট্রকে যে অর্থ জোগান দেন, সে অর্থের এমন অপচয় দেখে কার না মন খারাপ হয়। অথচ এসব সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো অনুশোচনা হয় বলে মনে হয় না।

মন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের এমন সফরে বিদেশে পাঠানো হয় বলে পত্রিকায় আমরা দেখতে পাই। কিছু কিছু সফরের উদ্দেশ্য এমন প্রকৃতির হয়, যা শুনে আমরা চমকে উঠি।

‘পুকুর খনন শিক্ষা গ্রহণে বিদেশ সফর,’ ‘নলকূপ খনন প্রশিক্ষণে একাধিক কর্মকর্তার বিদেশ সফর,’ ‘একটি ক্যামেরা কিনতে তিনজনের বিদেশ ভ্রমণ,’ ‘লিফট ক্রয়ের উদ্দেশ্যে বিদেশ সফর,’ ‘নিরাপদ পানি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া প্রশিক্ষণে উগান্ডা গমন’ ইত্যাদি অনেক সফরের কথা আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। এবার শুনতে হল ‘এসির বাতাস খেতে কর্মকর্তার মালয়েশিয়া গমন!’

এ প্রসঙ্গে কয়েক বছর আগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ৮ কর্মকর্তার ইউরোপ-আমেরিকা সফরের কথা উল্লেখ করা যায়।

২০, ২২, ২৫ তলার আবাসিক ভবন নির্মাণের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এ সফরের খবর ছড়িয়ে পড়লে তখন বেশ সমালোচনা হয়েছিল। ওই সফরের মূল উদ্দেশ্যও তখন সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। এ শিক্ষা সফরের কাফেলায় শামিল ছিলেন মন্ত্রণালয়ের চার কর্মকর্তা ও সিডিএ’র চার প্রকৌশলী।

এ চারজন প্রকৌশলীর মধ্যে ৩ জনই ছিলেন অর্থ চুরির দায়ে দুদকের মামলার আসামি। আশ্চর্যের বিষয়, মন্ত্রণালয়ের যে চারজন কর্মকর্তা সফরকারী দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তারা কেউই ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না।

এটি সবারই জানা, দেশের বড় বড় প্রকল্পে সরকারের কোনো না কোনো মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকে; কিন্তু দেখা গেছে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ভূমিকা নেই, এমন কর্মকর্তারাও কোনো যুক্তি ছাড়াই বিদেশ সফরে শামিল হয়ে যান।

এ বিষয়ে আমার নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করতে চাই। আমি তখন ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর এমআই পরিদফতরে কর্মরত। সাধারণত এমআই পরিদফতরই সেনাবাহিনীর পক্ষে দেশের বিভিন্ন মিডিয়ার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে থাকে।

একবার একটি সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তি মিশনগুলোতে যে দায়িত্ব পালন করছে সে সম্পর্কে দেশের মানুষকে ধারণা দিতে একটি টিভি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। দেশে তখন একটিই মাত্র টিভি চ্যানেল ‘বিটিভি’ চালু ছিল।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতিসংঘের যেসব মিশন এলাকায় বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট ডিপ্লোমা আছে সেসব এলাকায় একটি টিভি টিম পাঠিয়ে টিভি প্রতিবেদনটি তৈরি করা হবে। অতএব প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কার্যক্রমের জন্য একটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

টিভি টিমে বিটিভির প্রতিনিধিসহ জাতিসংঘ মিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ৫ জনের একটি টিম গঠনের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু সেনাসদরের পাঠানো সেই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের পছন্দ হল না। তারা আরও তিনজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৮ জনের একটি টিম পাঠানোর প্রস্তাব আবারও পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়টি উল্লেখিত প্রতিনিধি দলে কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে সে নির্দেশও দিয়ে দেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৩ জন, তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ২ জন, বিটিভি ক্যামেরা ক্রু ২ জন এবং সেনাসদর থেকে মাত্র একজন সদস্যকে দলভুক্ত করার জন্য বলা হয়।

নির্দেশ অনুযায়ী দলের ৮ জনের মধ্যে ৫ জনই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা যাদের জাতিসংঘ মিশন এলাকায় কোনো ভূমিকা নেই এবং পূর্ব থেকেও শান্তি মিশন সংক্রান্ত কোনো বিষয়েই জড়িত নন।

সুতরাং সেনাসদর মনে করেছে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের টিভি টিমে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো যুক্তি নেই। বরং মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে সেনাসদর থেকে যদি অন্তত একজন সদস্যকে নেয়া যায় তাহলে মিশন এলাকায় টিভি টিম পাঠানো অধিকতর যুক্তিসঙ্গত হবে।

সেনাসদরের এ প্রস্তাবও মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেনি। তারা তাদের নির্দেশ অনুসারে টিম গঠনের কথা আবারও উল্লেখ করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে সেনাসদর পর্যালোচনা করে দেখে, মাথা ভারী এই দল পাঠিয়ে কোনো লাভ হবে না এবং টিভি প্রতিবেদনের মূল উদ্দেশ্যই হয়তো হাসিল হবে না।

অতঃপর সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তি মিশনে টিভি টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মন্ত্রণালয়কে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়।

এ ঘটনার পর দীর্ঘদিন ধরে মিশন এলাকায় আর কোনো টিভি টিম পাঠানো সম্ভব হয়নি। এসব কারণে দীর্ঘদিন জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশংসনীয় কার্যক্রমের ওপর কোনো টিভি প্রতিবেদনও প্রচার করা যায়নি।

বাংলাদেশে বেসরকারি টিভি চ্যানেল চালু হলে মিশন এলাকায় টিভি টিম পাঠানোর পথ সহজ হয়ে যায় এবং শান্তি মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি অনুষ্ঠান বা প্রতিবেদন প্রচার করা সম্ভব হয়।

বেসরকারি টিভি চ্যানেলের এসব টিমকে মিশন এলাকায় পাঠাতে সরকারেরও কোনো অর্থ খরচ করতে হয়নি। বাংলাদেশের মিলিটারি কন্টিনজেন্ট পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের অর্থায়নে ভাড়া করা বিমানে এসব টিভি টিমগুলোকে মিশন এলাকায় পাঠিয়ে টিভি দৃশ্য ধারণ শেষে কন্টিনজেন্টের রোটেশন ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনা হতো। বর্তমানেও একই ব্যবস্থা চালু আছে।

দেশের সরকারি খাতের যে কোনো প্রকল্পে প্রয়োজনের তুলনায় বেশিসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এ সফরগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যোগ্যতার বালাই নেই এমন লোকদের যখন ইন্সপেকশনে পাঠানো হয় তখন সরকারের শুধু অর্থ খরচই হয় না বরং অনেক ক্ষেত্রে মূল্যবান পণ্যের যাচাই-বাছাইয়ে বড় ধরনের গলদ থেকে যায়।

এ কারণে এসব সফরকারী দলে যত বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাঠানো যাবে, পণ্যের কোয়ালিটি সম্পর্কে ততবেশি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের এ অহেতুক বিদেশ সফর নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীও যে বিরক্ত তা বোঝা যায় তার সাম্প্রতিক এক নির্দেশনায়। প্রকল্পের অজুহাতে সরকারি কর্মকর্তারা যেন ‘অহেতুক’ বিদেশ সফর না করেন সে বিষয়ে সম্প্রতি তিনি একটি নির্দেশও দিয়েছেন। এটি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে, এ রকম সফর কর্মসূচি দেখলেই তা বোঝা যায়।

উল্লেখ্য, আইনি কাঠামো ও নীতিমালা অনুসরণ করেই এ সফরগুলো এমনভাবে আয়োজন করা হয় যা পর্যালাচনা করলে মনে হবে এগুলো একেবারেই অপ্রয়োজনীয়, অথচ কিছুতেই বলা যাবে না অবৈধ। এসব ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভেতর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। তারপরও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের মানুষের প্রতিক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে একের পর এক এসব হাস্যকর বিদেশ সফরের আয়োজন করেই যাচ্ছে।

সম্প্রতি এ ধরনের একটি সফর নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে দু’জন পাঠক যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তা এখানে উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছি না।

সিদ্দিক নামে একজন ভদ্রলোক লিখেছেন, ‘Ridiculous! অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এটি মন্ত্রণালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিচু মানসিকতার পরিচয়। দেশের মানুষের টাকার কী চমৎকার ব্যবহার! ন্যূনতম লজ্জা বা হায়া থাকলে কোনো মানুষ এ রকম সফরে যেতে পারেন না। তারপরও ওরা যায়! ওরা কীভাবে যায় তা ভেবে আশ্চর্য হই।’

পুনশ্চ : সেদিন আমরা ক’জন বন্ধু মিলে গল্প করছিলাম। কথার ছলে চীনের করোনাভাইরাস প্রসঙ্গটি চলে আসে। এর মধ্যে একজন জিজ্ঞেস করে বসল, বাংলাদেশ সরকার করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য চীনে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল কবে পাঠাচ্ছে?

এ কথা শুনে অন্য একজন বন্ধু জবাব দিলেন, চীনে এ মুহূর্তে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানো ঠিক হবে না। তাছাড়া এ সময় কোনো কর্মকর্তা নিজের জীবন বিপন্ন করে চীন সফরে যেতে রাজি হবেন না।

প্রথম জন তখন বিরক্তির সুরে জিজ্ঞেস করেন, কেন? দালান-কোঠা নির্মাণ, নলকূপ লাগানো, এমনকি পুকুর খনন কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনে বিদেশ সফরে যদি অতি উৎসাহ দেখাতে পারে, তাহলে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য চীন সফরে যেতে রাজি হবেন না কেন? তৃতীয় একজন তখন মিটি মিটি হেসে বলেন, অপেক্ষা করুন, ধৈর্য ধরুন, দেখুন আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেয়!

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

নিউজ সোর্স – যুগান্তর

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!