এমিরেটস এয়ারলাইন্সের সেরা দশ তথ্য যা আপনার জানা প্রয়োজন

১। এমিরেটসের অন বোর্ডে গোসলখানা বা শাওয়ার আছে!

হেডিং পড়েই এক্সাইটেড হয়ে যাবেন না প্লিজ! এমিরেটস এর অন বোর্ড শাওয়ার ইউজ করতে হবে আপনাকে কিনতে হবে ফার্স্ট ক্লাসের টিকেট এবং যার জন্য গুণতে হতে পারে গন্তব্যভেদে কয়েক হাজার ডলার!

এবং যদি আকাশে উড়তে উড়তে গোসল করতে চান তাহলে খেয়াল রাখতে হবে আপনার এয়ারক্রাফট যাতে সুপার জাম্বো এয়ারবাস এ৩৮০ হয়। সুপার জাম্বো এয়ারবাসের ফার্স্ট ক্লাসে বার, শাওয়ার ফ্যাসিলিটি সবই আছে। কিন্তু বেশিরভাগ এমিরেটস ৭৭৭ ফ্লাইটের ফার্স্ট ক্লাসে শাওয়ার ফ্যাসিলিটি, এমনকি বার ও নেই। তাই টিকেট করার আগেই নিশ্চিত হয়ে নেবেন।

২। এমিরেটসের ৯৯ টি জাম্বো এয়ারবাস এ৩৮০ আছে

আমরা ইতিমধ্যে এয়ারবাস এ 380 সম্পর্কে কথা বলছি, দুবাই ভিত্তিক বিমান সংস্থাটি যেকোনো সময় তার ১০০তম এয়ারবাস এ 380 স্বাগত জানাতে পারে। রেভিনিউ এবং কিলোমিটার হিসেবে বিশ্বের চতুর্থ স্থান অধিকারী এই বিমান সংস্থাটি বিশ্বের সবচাইতে বড় এয়ারবাস বা সুপার জাম্বো বিমান অপারেট করে।

এমিরেটস এর জাম্বো বিমান
Emirates A380. Image by Darren Marsden from Pixabay

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এয়ারবাস ইন্ডাস্ট্রিতে এমিরেটসের আরো ৪২টি এয়ারবাস অর্ডার পেন্ডিং আছে, কে জানে হয়তো আপনি এই আর্টিকেল পড়তে পড়তে সব চলেও এসেছে! উল্লেখ্য যে এই আর্টিকেল লিখার সময় পর্যন্ত সিংগাপুর এয়ারলাইন্সের ১৯টি এয়ারবাস এ 380 এবং জার্মান বিমানসংস্থা লুফথানসার আছে ১৪টি।

৩। ১৫০ টি দেশ থেকে কেবিন ক্রু!

যেকোনো একটি এভারেজ এমিরেটস ফ্লাইটে আপনি কমপক্ষে ১২ টি বিভিন্ন দেশের বিমানবালা পাবেন যারা কমপক্ষে ৯ থেকে ১৮ টি ভাষায় কথা বলতে পারে! ইউনাইটেড আরব আমিরাত হলো বিভিন্ন দেশের এক্সপার্টদের মিলমেলায় পূর্ণ একটি দেশ, যেখানে অরিজিনাল লোকাল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অনেকদিন থেকেও বেশি এমিরাতি লোক খুঁজে পাওয়া যায়না।

টোটাল ২০০০০ কেবিন ক্রু এর মধ্যে বেশিরভাগই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ব্রিটেন থেকে। সারপ্রাইজের কিছু নেই! দুবাই – ব্রিটেন ২০ টি নিয়মিত এমিরেটস ফ্লাইট আসা যাওয়া করে। বাকি কেবিন ক্রুদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান, মিসরীয়, ফিলিপিনো এবং ইন্ডিয়ান অন্যতম।

৪। প্রথম ফ্লাইট ১৯৮৫ সালে দুবাই থেকে করাচি

বিশ্বাস করুন আর নাইবা করুন, এমিরেটস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৮৫ সালে, মাত্র ৩৪ বছর আগে। প্রথম ফ্লাইট বোয়িং ৭২৭ উড্ডয়ন করে ১৯৮৫ সালের ২৫ অক্টোবর, যেটা দুবাইয়ের রাজ পরিবার উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের করাচির সাথে দুবাইকে কানেক্ট করার জন্য। সেই ফ্লাইট ইকে৬০০ ছিলো একটি ঐতিহাসিক মাইলস্টোন বিমানের জগতে। ৩৪ বছর পর এসে এমিরেটস এখন ৮০ টি দেশের ১৪০ টি শহরে ৩৬০০+ ফ্লাইট অপারেট করে।

৫। পৃথিবীর বৃহত্তম ওয়াইড-বডি এয়ারক্রাফট

এমিরেটস হলো হাতেগোনা কিছু এয়ারলাইন্সের মধ্যে একটি যারা প্রশস্ত বডির এয়ারক্রাফট পরিচালনা করে। গালফ ক্যারিয়ার কেবল দুই ধরনের এয়ারক্রাফট ইউজ করে, এয়ারবাস এ৩৮০ এবং বোয়িং৭৭৭। এমিরেটস এই দুই ধরনের বিমানেরই সবচাইতে বড় অপারেটর পুরো বিশ্বের মধ্যে।

এই ধরনের এয়ারবাস এবং বোয়িং এমিরেটসের আছে ২৩৪ টি যা আরো বাড়ছে। এমিরেটস বিশ্বের একমাত্র এয়ারলাইন্স যার কোন সিট টিভি স্ক্রিন ছাড়া নেই। তাহলে জার্নি ভালই হবে! তাই না?

৬। এমিরেটসের দীর্ঘতম ফ্লাইট ১৭ ঘণ্টা ২৫ মিনিট!

দুবাই থেকে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে ডিরেক্ট ফ্লাইট যায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের এবং তাতে সময় লাগে পাক্কা ১৭ ঘণ্টা ২৫ মিনিট! এই সময়ের মধ্যে আপনি লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক গিয়ে ম্যানহাটনের স্টারবাকসের কফি খেয়ে আবার লন্ডন ফেরত চলে আসতে পারবেন।

এই রুটে EK449 যাত্রা শুরু করে ০২ মার্চ ২০১৬ সালে, যা তখনকার সময় সবচেয়ে দীর্ঘতম ফ্লাইতের খেতাব জিতে নেয়। এরপর অবশ্য কাতার এয়ারওয়েজ ও দোহা – অকল্যান্ড রুটে ডিরেক্ট ফ্লাইট চালু করে।

৭। দুবাই বিমানবন্দর পৃথিবীর তৃতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর

আটলান্টা জ্যাকসনভিল এবং বেইজিং ক্যাপিটাল এয়ারপোর্টের পরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের তৃতীয় ব্যস্ততম স্থান। এই ২ টি বিমানবন্দর বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ ট্রাফিক পরিচালনা করে। আর দুবাই পরিচালনা করে সব পিউর আন্তর্জাতিক রুট। শুধু ২০১৬ সালে দুবাই এয়ারপোর্ট ৮৩.৬ মিলিয়ন যাত্রী সেবা দিয়েছে যা ২০১০ সালের প্রায় দ্বিগুণ!

দুবাই এয়ারপোর্ট
Dubai Airport. Image by mmemeiyo from Pixabay

এই ৮৩.৬ মিলিয়ন যাত্রীর মধ্যে ৫৬ মিলিয়ন যাত্রীই ছিলো এমিরেটস এয়ারলাইন্সের। এমিরেটস ছাড়াও দুবাই এয়ারপোর্ট ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইন্সের মাদার এয়ারপোর্ট।

আরো পড়ুন – বাংলাদেশের সেরা ডোমেস্টিক বিমান সম্পর্কে

৮। চার বার Skytrax এয়ারলাইন অফ দ্যা ইয়ার বিজয়ী।

এমিরেটস চারবার Skytrax এয়ারলাইন অফ দ্যা ইয়ার জিতেছে। ২০০১, ২০০২, ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে। সবচাইতে বেশি জিতে নিয়েছে যদিও কাতার এয়ারওয়েজ। ২০১৬ সালে এমিরেটসের বিজনেস ভ্যালু ছিলো প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ মিলিয়নেরও বেশি যাত্রীকে তাদের মতামত দিতে বলা হয় যার ভিত্তিতে সেরা ১০০ এয়ারলাইন্স নির্বাচন করা হয়।

৯। এমিরেটস গ্লোবাল ফুটবলের সমর্থক

আমিরাত শুধুমাত্র একটি খুব সফল বিমান সংস্থা নয়, বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া ইভেন্ট এবং ক্লাবগুলি, বিশেষত ফুটবল দলগুলিকে স্পনসর করার ক্ষেত্রে এমিরেটস সব সময় এগিয়ে আছে। রিয়াল মাদ্রিদ, এসি মিলান, প্যারিস সেন্ট জার্মেই বা আর্সেনাল লন্ডনের মতো ক্লাবগুলির অন্যতম প্রধান স্পনসর সংযুক্ত আরব আমিরাত।

Image by Mohamed Ghaly from Pixabay

আর্সেনালের হোম গ্রাউন্ডটিকে এমিরেটস বলা হয়, যা পৃথিবীর অন্যতম আধুনিক ফুটবল অঙ্গন। এমিরেটস এয়ারলাইন্স ফিফা বিশ্বকাপেরও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল এবং ২০১৪ সালে মারিও গটজি যখন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জার্মানির হয়ে জয়ী গোলটি করেছিলেন, তখন আমিরাতের লোগো প্রায় বিশ্বের তিন বিলিয়ন মানুষ একসাথে দেখেছে!

১০। এমিরেটস কোনও জোটের অংশ নয়

তিনটি বড় বিমান জোট বা এলায়েন্স আছে। লুফথানসা, থাই এয়ারের মত এয়ারলাইন্স Star Alliance এর পার্ট। ব্রিটিশ, কাতার এয়ারওয়েজ OneWorld জোটের অন্তর্ভুক্ত। চায়না সাউদারনের মত বিমান SkyTeam জোটের মধ্যে আছে। এই এলায়েন্স গুলো সবসময় গালফ এরিয়ার এয়ারলাইন্সগুলোকে তাদের জোটে আনতে চেয়েছে। যদিও পারেনি।

তবে এমিরেটসের কান্টাস, দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ারওয়েজ বা শ্রীলঙ্কান এর মতো বিমান সংস্থাগুলির সাথে কোডের চুক্তি রয়েছে।

Original Artical By AirinfoBD.com
Please do not copy paste anywhere without permission & courtesy.

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!