উপসাগরীয় এয়ারলাইন্সের কার্গো পরিবহন ২০ শতাংশ বেড়েছে

নভেল করোনাভাইরাস ডিজিজ বা কভিড-১৯ এ বিশ্বব্যাপী ঘরবন্দি ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ। সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের আকাশ, নৌ ও বিমানপথে যাত্রী চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে বড় ধস নেমেছে বৈশ্বিক বিমান খাতে। বিশেষ করে যাত্রী কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক এয়ারলাইনসের ফ্লাইট কমে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। তবে এর বিপরীত চিত্র বিমানের কার্গো সেবা খাতে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান খাতে কার্গো সেবার পরিমাণ বেড়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহে বাড়ছে কার্গো বিমানের চাহিদা। এর ফলে গত বছরের তুলনায় সম্প্রতি এ অঞ্চলের কার্গো সেবা ২০ শতাংশ বেড়েছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস। 

করোনাভাইরাসের কারণে অধিকাংশ দেশের বিমান চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। তবে ঘরবন্দি মানুষ ও লকডাউনে থাকা দেশ-অঞ্চলের জন্য দ্রুত সরবরাহের প্রয়োজন পড়ছে খাদ্য ও চিকিৎসার মতো পণ্যের। আর এ কারণেই কার্গো সেবার চাহিদা বাড়ছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বব্যাপী বিমান পরিষেবায় সহযোগিতাকারী একটি প্রতিষ্ঠান হলো ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ট্রিপ সাপোর্ট। দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মাদ আল হুসারি বলেন, এরই মধ্যে কার্গো বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা ২০ শতাংশ বেড়েছে। জরুরি পণ্য সরবরাহে এখন কার্গোর চাহিদা বৃদ্ধির দিকে রয়েছে। 

কভিড-১৯-এর বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতি চলমান থাকলেও সামনের দিনে কার্গোর চাহিদা আরো বাড়বে বলেও মনে করেন মোহাম্মাদ আল হুসারি। তিনি বলেন, বর্তমানে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ও প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে কার্গোর চাহিদা বাড়ছে, যা সামনের দিনগুলোতে আরো ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। 

এদিকে বিমানের কার্গো পরিষেবা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলোও তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে কভিড-১৯-এর ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজনীয় এসব পণ্য যেন খুব দ্রুত বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে দেয়া যায়, সেজন্য কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। রিয়াদভিত্তিক বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিএএ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিকোলাস কোলে জানান, বর্তমানে কার্গো পরিষেবা বৃদ্ধির এ বিষয়টি লক্ষ্য করছেন তারা। তিনি বলেন, এজন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালু রাখা। যেসব বিমান পণ্য পরিবহন করতে আগ্রহী, তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। 

কার্গো পরিষেবা বৃদ্ধি এবং এটির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিমানের সাহায্যে চীন থেকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সেটি অন্যান্য এলাকায় সড়ক বা নৌপথে পৌঁছতে বেশি সময় লাগে। যে কারণে বিশ্বব্যাপী এখন যাত্রীর পরিবর্তে পণ্য পরিবহনে বিমান খাতের ওপর চাপ বাড়ছে। কভিড-১৯ মোকাবেলায় চিকিৎসা সরঞ্জামাদিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য দ্রুত বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে দেয়ার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বানও জানান বিমানবন্দর পরিচালনা খাতের এ কর্মকর্তা। 

এদিকে দুবাইভিত্তিক সরকারি বিমান সংস্থার এমিরেটস স্কাই কার্গোর মালবাহী বিমানের ফ্লাইট বেড়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি এখন ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, পচনশীল পণ্য এবং অন্যান্য পণ্যের কাঁচামাল পরিবহনের জন্য কার্গো সার্ভিসের পরিধি আরো বাড়িয়েছে। 

প্রতিষ্ঠানটি গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ২ লাখ ২৫ হাজার টনের বেশি পণ্য পরিবহন করেছে, যার মধ্যে ৫৫ হাজার টন খাদ্যপণ্য ও ১৩ হাজার টনের বেশি ওষুধ পণ্য ছিল। 

কার্গো পরিষেবা ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে আবুধাবিভিত্তিক ইতিহাদ কার্গোরও। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্ধিত চাহিদা মোকাবেলায় তারা মালবাহী উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়িয়েছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যমান বোয়িং-৭৭৭ এয়ারক্রাফটের সঙ্গে নতুন করে ৭৮৭-১০ মালবাহী কার্গো যুক্ত করেছে। 

নিউজ সোর্স – বণিক বার্তা

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!