অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর ৩ দিনে ৩ হাজার যাত্রী উড়েছেন

করোনার কারণে আকাশপথ বন্ধ থাকার পর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার নিয়ে চার দিন। প্রথম তিন দিন ঢাকা থেকে তিনটি আকাশপথে যাতায়াত করেছেন ৩ হাজার ৪৫ জন যাত্রী। এর মধ্যে দুটি বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা ও নভোএয়ার যাত্রী পরিবহন করেছে ৩ হাজার ২১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যাত্রী ছিল ২৪ জন। যাত্রী না পেয়ে এই চার দিন মাত্র দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করে বাকিগুলো বাতিল করেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা।

করোনার বিস্তার রোধে ২১ মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আকাশপথে যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর ১ জুন থেকে সীমিত পরিসরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট আকাশপথে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয় বেবিচক। প্রাথমিকভাবে আসা-যাওয়া মিলিয়ে প্রতিদিন ৪৮টি ফ্লাইট চলতে পারবে বলে জানায় বেবিচক।

শিডিউল অনুযায়ী, বিমানের সৈয়দপুরে ৬টি, চট্টগ্রামে ৪টি ও সিলেট রুটে ৪টি করে মোট ১৪টি ফ্লাইট চলাচলের কথা ছিল। ইউএস বাংলার ২০টি ও নভোএয়ারের ১৪টি ফ্লাইট ছিল। ১ জুনের আগেই বিমান সৈয়দপুর আকাশপথে তাদের ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে ৪টিতে নামিয়ে আনে। প্রথম দিন সৈয়দপুরে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান। সেদিন ঢাকা থেকে ৪ জন যাত্রী নিয়ে সৈয়দপুর যায় বিমানের একটি ফ্লাইট। ফিরতি ফ্লাইটে এই সংখ্যা ছিল ২০ জন। এর পরই বিমানের একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হতে থাকে। ১ জুন ১২টি, ২ জুন থেকে ৪ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন ১৪টি করে মোট ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। অন্য দুটি বিমান সংস্থার মধ্যে ইউএস বাংলা ঢাকা -চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ৩ জুন পর্যন্ত ১২টি ফ্লাইট বাতিল করে। তবে নভোএয়ার ৩ জুন দুটি ফ্লাইট কমিয়ে আনলেও এখনো পর্যন্ত কোনো ফ্লাইট বাতিল করেনি।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ১ ও ২ জুনের চেয়ে গতকাল ৩ জুন যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে। ১ জুন ঢাকা থেকে আসা-যাওয়া করেছেন ১ হাজার ৬৪ জন। ২ জুন ছিল ৯০১ জন। তবে ৩ জুন যাত্রীসংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮০ জন।

যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও বিমান ফ্লাইট বন্ধ করায় অবাক করেছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি একটি বিমান সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিমান ফ্লাইট বাতিল করলে আমাদের জন্য বিপদ। যখন দেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করতে থাকে, তখন যাত্রীরা আস্থাহীনতায় ভোগেন। এ কারণে তাঁরা আকাশপথে ভ্রমণও বাতিল করেন। অথচ করোনা মোকাবিলায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ফ্লাইট চালু রাখা হয়েছে।


ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বেসরকারি বিমান সংস্থার খরচ অনেক। অফিস থেকে শুরু করে সবকিছুর জন্য বাড়তি অর্থ গুনতে হয়। অথচ বিমানের নিজস্ব দক্ষ জনবল রয়েছে। তাদের অবকাঠামো অনেক মজবুত। জ্বালানি কিনতে হয় আমাদের চেয়ে কম দামে। তার পরও বিমানের ফ্লাইট বাতিল করাটা দুঃখজনক।’


ফ্লাইট বাতিল করার বিষয়ে বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ ) তাহেরা খন্দকার আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাত্রী স্বল্পতার কারণে ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে বলে আমাদের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানানো হচ্ছে। এর বাইরে কোনো কারণ জানা নেই। তবে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’

তাহেরা খন্দকার জানান, আগামীকাল ৫ জুন ও পরদিন ৬ জুন যাত্রী স্বল্পতার কারণে অভ্যন্তরীণ সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। 


অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট সব বিমান সংস্থার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমি বিমান সংস্থাগুলোকে যাত্রীদের আস্থায় আনতে বলেছি। তাদের অনুরোধ করেছি, যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ফ্লাইট চলছে, সেটি যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত। তবে আপাতত ভাড়া না বাড়াতে বলেছি। প্রথম দুদিনের তুলনায় ৩ জুন ফ্লাইটে যাত্রী বেড়েছে। কিন্তু বিমান কেন ফ্লাইট বাতিল করছে, এটা তাদের পলিসির ব্যাপার।’

পলিসির কারণে বিমান যাত্রী স্বল্পতায় ভুগছে বলে জানান বিমানের সাবেক পাইলট ও বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাবেক সভাপতি নাসিমুল হক। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিমান যে পরিমাণ লোকসান দিয়েছে, তাতে তাদের সোজা হয়ে দাঁড়ানো কঠিন। আরেকটি বিষয় আছে বিমানের পলিসি। এ কারণেও বিমান দিনের পর দিন লোকসান গুনছে। তবে অন্যদের চেয়ে টিকিটের দাম বিমানের কিছুটা বেশি। সেটি কমালে হয়তো যাত্রী আসতে পারে বিমানে।

অভ্যন্তরীণ সব আকাশপথে চার্টার্ড ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে বিমান। ফ্যামিলি ট্রিপের জন্য শর্তসাপেক্ষে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকায় প্রতিটি ফ্লাইট ভাড়া নেওয়া যাবে। আজ বিমানের জনসংযোগ শাখা থেকে এ কথা জানানো হয়।

Source Link

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!